admin

প্রকাশিত: 12:09 PM, May 7, 2026

আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের কট্টরপন্থীরাও ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলে

আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের কট্টরপন্থীরাও ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলে

সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে সাংবাদিকদের পাস কার্ড নিয়ে লুকোচুরি

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানসমুহে মিডিয়া কাভারেজ করতে স্থানীয় সাংবাদিকদের পাস কার্ড সংগ্রহের জন্য বিগত ২৯ এপ্রিল দুপুরে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনসমূহকে তালিকা দিতে বলেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা। এসএসএফ এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ সভায় আলোচনা শেষে (কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত তালিকা সমন্বয় করার দায়িত্ব দেয়া হয়। আঞ্চলিক তথ্য অফিসের একজন কর্মকর্তা এবিষয়ের বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে তিনটি ক্লাববের দায়িত্বশীলদের অবহিত করেন। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিআইডি’র সিলেট আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে সাংবাদিকদের তালিকা সংগ্রহ করেন। যথারীতি ৩০ এপ্রিল পিআইডি’র কাছে তালিকাও দেওয়া হয়। কিন্তু পাস ইস্যুর দিন ১ মে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব ও সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ শাখায় গিয়ে দেখতে পান, পিআইডি কর্তৃক প্রেরিত সেই তালিকা নেই, বরং জেলা প্রশাসন থেকে শুধুমাত্র নাম ও পিতার নাম দিয়ে অন্য একটি তালিকা সেখানে পাঠানো হয়েছে। এতে বিপত্তিতে পড়েন সাংবাদিক নেতারা। মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
পরে একজন সাংবাদিক নেতা জেলা প্রশাসনের এডিএম পিংকি সাহার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে, জেলা প্রশাসক একটি খাম উনাকে দিয়েছেন, উনি সেটিই সিটিএসবিতে পাঠিয়েছেন। এর বাহিরে তিনি কিছু জানেন না ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পিআইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ কাভারেজ করার জন্য যাচাই বাঁচাই করে তিনটি প্রেসক্লাবের সঙ্গে সমন্বয় করে ৬৫ জন সংবাদিকের একটি তালিকা এডিএম এর দপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে রহস্যজনকভাবে ৬৩ জন সাংবাদিকের একটি ভিন্ন তালিকা সিটিএসবিতে হয়। এই তালিকার বেশীরভাগই পতিত ফ্যাসিস্ট রেজিম ও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুসারী।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাষ্ট্রের মূখপাৎ ও সাংবাদিকদের সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান পিআইডিকে পাস কাটিয়ে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন পরিচয়দানকারী এক ব্যাক্তির কুটচালে পড়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক এমনটি করেছেন। জনৈক এই ব্যাক্তি এর আগে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জামায়াতের আমীরের ঘনিষ্ঠজন পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে সিলেট সার্কিট হাউজে পিআইডি আয়োজিত সাংবাদিকদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান ভন্ডুল করতে চেয়েছিলেন। সব শেষ তার প্ররোচনায় তৎক্ষালীন বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী সার্কিট হাউজে অবস্থান করলেও সরকারের সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।
বিভিন্ন কারনে বিতর্কে জড়িয়ে পড়া সিলটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম এই ব্যাক্তির প্ররোচনায় বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনের মারপ্যাচে ফেলে সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের নির্বাচনী পাসকার্ড ইস্যুতে সমস্যা তৈরি করে। পরে এই চক্রের সাথে মিলে জামায়াত ও শিবিরের ক্যাডারদের হাতে ফেইসবুক পেইজ ও ভুয়া পরিচয়ে সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষক কার্ড তুলে দেন। যার প্রমাণ নির্বাচনের আগের রাতে পাওয়া গেছে। নির্বাচনের ঠিক আগের রাতে পর্যবেক্ষক পরিচয়ে ঐ দলের ক্যাডাররা নগরীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন অনুষ্ঠান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের এবং জামায়াত-শিবিরের অনেক কট্টরপন্থীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে আয়োজন উপ কমিটির অনেক সদস্যকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কাদের প্ররোচনায় ভিভিআইপিকে এই নিরাপত্তা ঝুকিতে ফেলানো হয়েছিল, এর দায় কার, আর জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান নিয়ে এই লুকোচুরিই বা করল কেন?
বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, দেশের সর্বোচ্চ ব্যাক্তির নিরাপত্তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের এই অপতৎপরতা সত্যিই সন্দেহজনক। বিষয়টি সুষ্ঠু ভাবে তদন্ত করে এর সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যতায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
সাংবাদিকদের পাসকার্ড নিয়ে লুকোচুরি বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন বলেন, মাননীয় প্রধানমনত্রীর সিলেট সফরকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে যথাযত নিয়ম অনুস¦রন করে পিআইডিতে আবেদন জমা দেওয়া হয়। পিআইডি থেকে জেলাপ্রশাসক বরাবর প্রেরন করা হয় । কিন্তু জেলাপ্রশাসক কার্যালয় থেকে সিটিএসবি সে তালিকা প্রেরন করা হয়নি,এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরের সংবাদ সংগ্রহ করতে বাধাগ্রস্থ হয়েছে। তিনি বলেন সাংবাদিকদের পাসকাড বিষয়ে জেলাপ্রশাসনকে আরও সতর্কতা ও সচেতন থাকা জরুরি ছিলো । কেননা প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান কাভার করা প্রতিটি গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. সাইফুর রহমান তালুকদার বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ইভেন্ট কমিটির সদস্য হওয়ার পরও আমি অনুষ্ঠানের দাওয়াত পাইনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পাসকার্ড নিয়ে লুকোচুরি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। পিআইডি থেকে পাঠানো সাংবাদিকদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কে বা কারা পরিবর্তন করেছেন, কারা এই অনুষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যাক্তিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। না হলে ভবিষ্যতে কোন বড়ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইমজা, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিলেট আগমন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের পাস কার্ড ইস্যু নিয়ে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক ও দুঃখজনক। ২ দিন আগে থেকেই টেলিভিশন সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা আমাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে। প্রথমে জানানো হয়, পিআইডি থেকে বিষয়টি এডিএমের কাছে পাঠানো হয়েছে; সেখান থেকে সিটিএসবির মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পাস সরবরাহ করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর শেষ পর্যন্ত ১ তারিখ রাত ১২টায় জানানো হয়—পাস কার্ড দেওয়া হবে না।
এছাড়া মাত্র তিনটি ভেন্যু উন্মুক্ত রাখা হয়, বাকিগুলোতে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। কর্মসূচির দিন বাসিয়া খাল ছাড়া অন্যান্য ভেন্যুগুলোতে বহু সাংবাদিককে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা পেশাগত দায়িত্ব পালনে সরাসরি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। সবশেষে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে পাস কার্ড ইস্যু নিয়ে প্রশাসনের এই ‘চোর-পুলিশ’ খেলা স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি অবমাননাকর এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি ভবিষ্যতে এমন আয়োজনে গণমাধ্যমের প্রতি সমন্বিত ও দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তাকেই স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
বিষয়টি জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।


সর্বশেষ সংবাদ

আ’লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে খাজাঞ্চিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ

আ’লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে খাজাঞ্চিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্বনাথের খাজাঞ্চি ইউনিয়ন যুবদল, স্বেচ্চাসেবক দল, শ্রমিকদল, কৃষকদল, ছাত্রদল

বাজুস সিলেট জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

বাজুস সিলেট জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সিলেট জেলা শাখার ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন পরিদর্শন করেছেন বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সিলেটের ব্যবসায়ীবৃন্দ।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে রেড ক্রিসেন্ট: ব্যারিস্টার সালাম

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে রেড ক্রিসেন্ট: ব্যারিস্টার সালাম

স্টাফ রিপোর্টার: দেশজুড়ে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)।

সিলেটে ২২ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক

সিলেটে ২২ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক

স্টাফ রিপোর্টার: শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আনা ভারতীয় পণ্য আটক করেছেন সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির সদস্যরা। গতকাল বুধবার গোপন

সিলামে যুবক হত্যা অবস্থান বদলে ভুল স্বীকার চেয়ারম্যানের

সিলামে যুবক হত্যা অবস্থান বদলে ভুল স্বীকার চেয়ারম্যানের

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের শহরতলীর সিলামে ঐতিহাসিক শাহ তৈয়র ছয়লানী (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের বিশাল সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরনো সংঘাতের জের ধরে

বিশ্বনাথে দুই পক্ষের সমাবেশের জেরে ১৪৪ ধারা জারি

বিশ্বনাথে দুই পক্ষের সমাবেশের জেরে ১৪৪ ধারা জারি

বিশ^নাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথে একই স্থানে দুই পক্ষের সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনার জেরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার

৩৯নং ওয়ার্ড বিএনপির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে কয়েস লোদীর অভিনন্দন

৩৯নং ওয়ার্ড বিএনপির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে কয়েস লোদীর অভিনন্দন

সিলেট মহানগর বিএনপির ৩৯নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হোসেন এনাম, সাধারণ সম্পাদক ফখর উদ্দীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন-কে আন্তরিক

মাঠের রাজনীতির কাণ্ডারি ইমদাদ চৌধুরী

মাঠের রাজনীতির কাণ্ডারি ইমদাদ চৌধুরী

খন্দকার মুক্তাদিরের চোখে এক ‘পরিশ্রমী ও কর্মতৎপর’ নেতা সিলেটের রাজনীতিতে রাজপথের দূরদর্শী সংগঠক ও তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত