admin
প্রকাশিত: ৭:১২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০২৫
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে উত্থান ঘটেছিল এক আওয়ামী ডেভিলের। সুবাস দাস নামের এই ডেভিল সীমান্তের ওপারে চলে গেলেও এপারে রে গেছে তার কুবাস। সেই কুবাস (দর্গন্ধ) এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পূরো উপজেলা জুড়ে। তার অনুগত ডেভিলরা রাজনৈতিক খোলস বদলিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে সরকারী খনিজ সম্পদ পাথর-বালু লুটপাট ও চাঁদাবাজির রামরাজত্ব।
সাধারণ হোটেল বয় ও টি-বয় থেকে আওয়ামী আমলে হাজার কোটিপতি হয়ে উঠে এই সুবাস।
গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ি ইউনিয়নের প্রয়াত নলিনী কান্ত দাসের ছেলে এই সুবাস দাস। নুন আনতে পানতা ফুরায় পরিবারের ছেলে যেন হয়ে উঠেছিলেন মধ্যযুগের এক সম্রাট।
মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে তার জীবনে যে পরিবর্তন তা সব কল্পনাকেও হার মানিয়েছিল। একেবারে হোটেল বয় থেকে হয়েছিল শত শত কোটি টাকার মালিক। শুধু বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিকই শুধু নয়, তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগের পদপদবিও বাগিয়ে নেয় সে। ক্ষমতা ও টাকার জোরে পুরো গোয়াইনঘাট উপজেলা ছিল তার নিয়ন্ত্রণে।
সরকারি কোন কর্মচারী না হলেও উপজেলা প্রশাসন সহ পুরো উপজেলার যেন সে-ই ছিল একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক! ‘উপজেলা কার্যালয় এলাকায়’ ঢুকতে গেলেই নিতে হতো তার অনুমতি। এর ব্যত্যয় ঘটলে নেমে আসতো বিপদ। তার মন জুগিয়ে চলতে না পারলে জীবন কেড়ে নিতেও পিছপা হতো না সে।এমনই এক শাসন চালিয়েছে সে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করে অভাবের তাড়নায় তার লেখাপড়া আর এগোয়নি। ফলে তাকেই হাল ধরতে হয়েছে পরিবারের সদস্যদের ভরণ পোষণের। চাকরি নেন উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী কালা মিয়ার আবাসিক হোটেলে। এসময় তাকে আবাসিক হোটেল দেখাশোনার পাশাপাশি চায়ের দোকানেরও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়। চায়ের দোকানের কাজের সুবাদে তার সাথে পরিচয় হয় উপজেলা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর। সেই সুযোগ লুফে নিয়ে সুবাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাছ, সুগন্ধি চাল বিভিন্ন নিত্য পণ্য নিয়ে হাজির হতো উপজেলা কার্যালয়ে। এভাবেই একসময় সে হয়ে উঠেছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রিয়ভাজন হিসেবে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুরু করে তদবির বানিজ্য। একের পর এক তদবিরে সফল হওয়ায় তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে পুরো উপজেলায়। তখন তার এই একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখতে পুরো উপজেলা জুড়ে গড়ে তোলে কয়েকটি ‘গ্যাং গ্রুপ’। এই গ্রুপগুলোর মাধ্যমে নদীতে কি ডাঙ্গায়, সবখানেই চলছিল চাঁদাবাজি।
রাতারাতি ভাগ্য পরিবর্তন হওয়া গ্যাং লিডার সুবাস শুরুতে বিএনপির রাজনীতি করলেও পরবর্তীতে সে হয়ে যায় আওয়ামী লীগের একজন বড় মাপের নেতা। আর এসব কিছু সম্ভব হয়েছে শুধু অবৈধ টাকার জোরে। এমন অভিযোগ ছিল ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর। তাদের দাবি আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে সে মন্ত্রীর কাছের লোক পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। মন্ত্রীর কাছের লোক সুবাস, এই ভয়ে দুর্নীতিবাজ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যেন হয়ে গিয়েছল তার কাছে জিম্মি।
পাথর কোয়ারী,বালু মহাল, চোরাচালান লাইনম্যান, তামাবিল স্থলবন্দর ও নদীপথে নৌকা, ভলগেইট,লঞ্চ থেকে চাঁদাবাজী এবং লোটপাট করে হাজার কোটিপতি হয়ে তার নাম হয়ে গিয়েছিল গোয়াইনঘাটের দাদা। অনেক সুবিধা ভোগীরা তাকে দাদা নামে ডাকতেন। দাদা মানে সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সদস্য এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী সিলেট-৪ আসনের ইমরান আহমদ এমপির টাকার মিশিন। এই সুবাস দাস ওরফে দাদা এখন সীমান্তের ওপার ভারতে পলাতক রয়েছে। ভারতে থেকেও সুবাস তার শিষ্য ও অনুগতদের মাধ্যমে পাথর বালু লুটসহ তার অবৈধ সব ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে।
এদিকে সুবাস দাস ওরফে সুবাস দাদার পলায়নে ৫ আগস্ট পরবর্তী দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দাদা সুবাসের শূণ্যতা পূরণে আরো এক দাদার আবির্ভাব ঘটে গোয়াইনঘাটে। এই দাদার নাম স্টেলিং তাবিয়াং। তিনি গোয়াইনঘাট সংগ্রাম পুন্জির জহিনল কংওয়াংয়ের ছেলে। বিএনপি সিলেট জেলা ক্রিড়া সম্পাদক পরিচয়ে তিনি তিনি সুবাস দাদার স্থলাভিষিক্ত গ্যাং লিডার হয়েছেন। তার বিরোদ্ধে গোয়াইনঘাট থানায় অস্ত্র মামলায় অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন তাকে গ্রেফতার করে কারাবন্ধীও করেছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগ উঠেছে, গোয়াইনঘাটের জাফলং,খাসিয়া পুন্জি ও প্রতাপপুরে পাথর বালু লুটপাটে সুবাস নিয়ন্ত্রিত স্টেলিং বাহিনী নামে একটি বিশাল চক্র গড়ে উঠেছে। এই বাহিনীতে আরো যাদের নাম শোনা গেছে তারা হলেন, যুবদল ও বিএনপির জাহিদ খান, পদচ্যুত ইউপি চেয়াম্যন বিএনপি নেতা আরিফ ইকবাল নেহাল, আব্দুস সাত্তার, জুবের, কামাল মেম্বারসহ কয়েকজন। তারা এখন প্রতিদিন আইন অমান্য করে ও নিয়ম কানুনের কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে লক্ষ লক্ষ টাকার পাথর বালু লোট করছে এবং সাধারণ দিনমজুর বালু পাথর শ্রমিকদের থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি করছে। সুবাস দাদার স্থলাভিষিক্ত নতুন দাদা স্টেলিং তাবিয়াং নাকি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদের খাস লোক। সালাহ উদ্দিন আহমদ যখন শিলংয়ে আটক ছিলেন তখন স্টেলিং তাবিয়াং চোরাই পথে সেখান গিয়ে তার দেখভাল করতেন। স্ট্যালির বাহিনী সরকারি কোনো বালু-পাথর মহাল ইজারা নিতে না পারলেও জাফলং, খাসিয়া পুন্জি ও প্রতাপপুরে স্টেলিং বাহিনীর বালু ও পাথর মহাল থেকে লুটপাট ও চাঁদাবাজি থামছে না। সচেতন মহল এ ব্যাপারে বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিলেটের সংবাদ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সিলেট আর্ট এন্ড
৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে সিলেটের সংবাদ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন,
সিলেট সিটি করপোরেশনের চৌকিদেখী এলাকার শাহপরান প্রি-ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষার্থী মারিয়া মেহজাবিন মাওয়া “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” প্রতিযোগিতার উশু ইভেন্টে গোল্ড মেডেল
ড্রেজারে বালু কাটছে আলীম সিন্ডিকেট স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে, কোনো প্রকার টেন্ডার বা ইজারা ছাড়াই সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার
সাকির আমিন, ছাতক: সুনামগঞ্জের ছাতক সদর ইউনিয়নের আন্ধারী গাঁও,মল্লিক পুর,কেশব পুর ও বাউশা ডহর (গভীর) নামক স্থানে সুরমা নদীর ভাঙনে
সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নাধীন পুটিকাটা বিল জলমহাল ১৪৩৩-১৪৩৫ বাংলা সনের চৈত্র পর্যন্ত সময়ের জন্য বার্ষিক ৩,০৮,২২৪ (তিন লক্ষ আট
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সবসময়ই জনগণের আকাঙক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত
জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দ ও হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ১০দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক