admin
প্রকাশিত: ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২৫
আল-আমিন মিয়া:
সিলেট সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকা ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসন দেশের জাতীয় রাজনীতিতে সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। স্বাধীনতার পর থেকে বেশিরভাগ নির্বাচনেই এই আসনের ফলাফল কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সমীকরণে ভূমিকা রেখেছে। মিথ আছে “যে এই আসনে জয়ী হয়, সরকারও গঠন করে সেই দল” এমন ধারণা বহুদিন ধরেই জনমনে প্রচলিত। তাই নির্বাচন সামনে রেখে সিলেট-০১ আসন এখন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে পুরোপুরি জমে উঠেছে এ আসনের নির্বাচনি মাঠ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতে এ আসনের নির্বাচনি মাঠ অনেকটাই বিএনপির দখলে। তবে থেমে নেই ইসলামি দলগুলোও। মাঠে রয়েছেন তারাও।
বিএনপি ইতোমধ্যে সিলেট-০১ আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেটের পরিচিত মুখ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে। তিনি ২০১৮ সালে এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা, সিলেট শহরে শক্তিশালী ভোটব্যাংক এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই তিন শক্তির ওপরই ভরসা করছে বিএনপি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন তিনি। সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও সদরে তার সমর্থকরা নিয়মিত সভা-সমাবেশের মাধ্যমে জনসমর্থন আদায়ে কাজ করছেন।
শহরাঞ্চলের শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা দীর্ঘদিনের, যা তাকে নির্বাচনের মাঠে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলছে। তবে বিএনপির সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ, মাঠে সক্রিয়তা এবং জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এসবই নির্বাচনী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মুক্তাদিরের অনুসারীদের দাবি, ত্যাগী নেতা হিসেবেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটের সংবাদ-কে বলেন, ‘সিলেট-১-এর সম্মানিত ভোটাররাই আমাকে এমপি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবে। দ্বিতীয় বারের মতো বিএনপি আমার হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়েছে। প্রতিবারই আওয়ামী লীগই ছিল আমাদের মুখোমুখি। আশা করি, এবারও জনগণ নিরাশ করবে না। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
মুক্তাদির বলেন, ‘এখন একটি সুন্দর সময়। বর্তমানে আমাদের দলের মতো বড় দল মাঠে নেই। শুধু সিলেটে নয়, গোটা বাংলাদেশের সব আসন থেকেই বিএনপি জয়লাভ করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে নানা অন্যায়-অত্যাচার উপেক্ষা করেও মানুষের সঙ্গে ছিলাম, এখনো আছি। মানুষ আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দেবে ইনশাআল্লাহ।’ এ আসনে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বিরামহীনভাবে। তিনি বলছেন, মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তারাও।
জামায়াতে ইসলামী থেকে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে এ আসনে এখনো কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপি।
জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা বলছেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ডাকসু, জাকসু, রাকসু ও চাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির প্রার্থীদের অভূতপূর্ব বিজয়কে নির্বাচনি মাঠে কাজে লাগাতে চাইছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। সমাজের গরিব, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষ একশ্রেণির শাসকের শোষণের শিকার হয়েছে। আমরা শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘এবার যে ফ্রি-ফেয়ার নির্বাচন হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অর্ন্তর্বতী সরকারের আমলে ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন হবে, সেই প্রত্যাশাই আমাদের। এ কারণেই সিলেট-১ আসনের মানুষ জামায়াতে ইসলামকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। ইনশাআল্লাহ জয় আমাদের হবে। ’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। সবমহলে ভালো একটা ফিডব্যাক পাচ্ছি। ইসলামি দলগুলো এখন পর্যন্ত এক প্ল্যাটফর্মে আছে। যদি শেষ পর্যন্ত সবাই এক প্ল্যাটফর্মে থাকতে পারি, তাহলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’
দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হতে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, যোগ্য প্রার্থীকেই তারা বেছে নেবেন।
সদর উপজেলার বাসিন্দা সুমন আহমেদ। তিনি সিলেটের সংবাদ-কে বলেন, ‘গত ১৫ বছরের নির্বাচনের হিসেব আর এবারের নির্বাচনের হিসেব পুরোপুরি আলাদা। এবার ভোট সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা দেখে সবাই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছে। গত ১৫ বছর কেউ কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি। যারা গেছে তারা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট না দিয়েই ফিরে এসেছে। এ অবস্থায় সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ভোটের উৎসব হবে।’
টুকেরবাজারের বাসিন্দা আজিজ আহমদ সিলেটের সংবাদ-কে বলেন, ‘সদর-নগরে ইসলামি দলগুলো ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিএনপির সামনে তারা কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারবে সেটাই দেখার বিষয়। তবে এবার যারাই জয়ী হতে চান, তাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে। ভোট পেতে হলে ভোটারদের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।’
এ আসনের তরুণ ভোটার আব্দুল কাইয়ুম সামি সিলেটের সংবাদ-কে বলেন, ‘বিগত দিনের মতো দিনের ভোট রাতে না হলে সিলেট-১ আসনে ভোটের উৎসব দেখা যাবে। সেক্ষেত্রে জয়ী হতে হলে ভোটারদের মন জয় করতে হবে প্রার্থীদের। নিজেদের সৎ ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে।’
সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাহান আহমদ সাজু সিলেটের সংবাদ-কে বলেন, ‘গত ১৫ বছরে কেউ কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। সবকিছু ঠিক থাকলে এবার ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি হবে আশানুরূপ।’
খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হাসান আহমদ বলেন, ‘নির্বাচনে যে প্রার্থীই জয়ী হোক, তাকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। যিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন জনগণ তাকেই বেছে নেবে।’
সিলেট-০১ আসনের ভোটারদের বড় অংশই শহরকেন্দ্রিক। ফলে তাদের দাবি-দাওয়াও ভিন্ন। জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, সড়ক উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপত্তা, সিটি কর্পোরেশনের সেবা এগুলোই প্রধান ইস্যু। পাশাপাশি প্রবাসী-নির্ভর অর্থনীতির কারণে বিদেশফেরত যুবকদের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অতীতে যারা এই আসনে নির্বাচিত হয়েছেন : ১৯৭৩ সাল থেকেই সিলেট-১ আসন গঠিত। ১৯৮৬, ১৯৮৮-এর জয়ী দুই এমপি-এর দল বা স্বতন্ত্র অবস্থান ছিল সাধারণত। ২০১৪ সালের নির্বাচন ছিল একতরফা (বিরোধী দল অংশ না নেওয়ার কারণে), ফলে আবুল মাল আবদুল মুহিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আব্দুল হেকিম চৌধুরী (১৯৭৩), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সৈয়দ রফিকুল হক (১৯৭৯), স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী (১৯৮৬), জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী নাম উল্লিখিত নয় (১৯৮৮), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির খন্দকার আবদুল মালিক (১৯৯১), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী (১৯৯৬), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাইফুর রহমান (২০০১), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আবুল মাল আবদুল মুহিত (২০০৮), আবুল মাল আবদুল মুহিত (২০১৪), এ কে আবদুল মোমেন (২০১৮), এ কে আবদুল মোমেন (২০২৪)।
সিলেট-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫১৯ জন। নারী ভোটার ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৩৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ১৩ জন।
সিলেট-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার বাস ও মিনিবাস মালিক গ্রুপের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস বাস মৌলভীবাজার সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল
সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন বরইকান্দি এলাকায় ‘ছাত্রাবাস মালিক সমিতি, এর এক জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী
এ কে আজাদ গোয়াইনঘাট: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এক নারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও
গত ১৪ ও ১৬ মে দুই পর্বে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন রাশেদ
রুবেল আহমদ: শ্রমও ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, নদী ভাঙন রোধ
এ কে আজাদ, গোয়াইনঘাট: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে দুর্বৃত্তদের হামলায় এক বৃদ্ধা নারী নিহত হয়েছেন। এ
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হলো কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি কমিউনিটি
মোঃ আল আমীন, জগন্নাথপুর: রিয়াজ রহমান, জগন্নাথপু থেকে: সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রৌয়াইল গ্রামের সুইচ গেইট এলাকার পূর্ব