admin
প্রকাশিত: 5:23 AM, August 18, 2026
সিলেটের গোয়াইনঘাটে ১৩০ পিস কথিত ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের অভিযান ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। অভিযানে অরুপ রায় (অপু) নামে এক ব্যক্তিকে আটকের পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, পরবর্তীতে পুলিশের কথিত সোর্স জুবায়ের আহমদকে থানায় ডেকে এনে একই ঘটনায় আসামি করার অভিযোগ এবং কথিত ইয়াবার প্রকৃত পরিচয়—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়েছে নাটকীয় মোড়।
এ ঘটনায় পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই ফয়েজ উদ্দিনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জুবায়েরের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, ফয়েজ উদ্দিনসহ পুলিশের কয়েকজন সদস্য ফোন করে জুবায়েরকে বাড়ি থেকে থানায় ডেকে নেন। পরে তাকে মামলায় আসামি করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে এরই মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গোয়াইনঘাট থানা-পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে সবুজ দীঘির পাড় এলাকা থেকে একটি এফজেড ভার্সন-৩ মোটরসাইকেল ও ১৩০ পিস কথিত ইয়াবাসহ অরুপ রায় (অপু)-কে আটক করে।অরুপের পিতার নাম মনি রায় ও মাতার নাম রুবি রায়। তার স্থায়ী ঠিকানা নেত্রকোনা জেলার সামাই মোহনগঞ্জ পল্লী এলাকায়। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকার একটি বাসায় থাকেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অরুপকে আটকের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্টে জুবায়ের আহমদের নম্বর পাওয়া যায়। এরপর জুবায়েরকে ফোন করে থানায় ডেকে নেওয়া হয়।জুবায়েরের বাড়ি গোয়াইনঘাট থানার ছোটখেল এলাকায়। পুলিশের দাবি, জুবায়ের তাদের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অরুপকে আটক করা হয়।কিন্তু ঘটনার পর পুলিশের সেই বক্তব্য নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন—যিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছিলেন, তিনিই কীভাবে পরে একই মামলার আসামি হলেন?
জুবায়ের ও তার স্বজনদের অভিযোগ, এসআই ফয়েজ উদ্দিন, কম্পিউটার অপারেটর জীবন ও কনস্টেবল মাহমুদ ফোন করে জুবায়েরকে বাড়ি থেকে থানায় ডেকে নেন। এরপর অরুপ রায়ের পরিবর্তে তাকে দাঁড় করিয়ে ১৩০ পিস কথিত ইয়াবাসহ মামলা দেওয়া হয়েছে।তাদের আরও অভিযোগ, অরুপকে আটকের পর ভোরের দিকে থানা হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাকে ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন গোয়াইনঘাট থানা-পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দিক হলো—পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অরুপের কাছ থেকে উদ্ধার করা ১৩০টি ট্যাবলেট পরীক্ষায় আসল ইয়াবা নয় বলে জানা যায়। পুলিশের দাবি, এগুলো মায়াবড়ি ও গোবর দিয়ে তৈরি বড়ি।অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে, যদি উদ্ধার করা ট্যাবলেট ইয়াবা না হয়ে থাকে, তাহলে অরুপকে আটকের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো কেন এবং একই ঘটনায় জুবায়েরকে কেন মামলায় আসামি করা হলো?
গোয়াইনঘাট থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফয়েজ উদ্দিন বলেন, পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তার দাবি, উদ্ধার করা বস্তু আসল ইয়াবা নয় এবং অরুপ যাদের কাছে এগুলো বিক্রি করেছিল, তাদের মাধ্যমেই পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হয়।তবে অরুপ রায়কে থানা হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং কথিত অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তার বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্নের অবকাশ তৈরি হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য মাদক কারবারিদের আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। তার দাবি, জুবায়ের পুলিশের সোর্স ছিলেন এবং প্রকৃত মাদক কারবারিকে ধরতে তাকে ক্রেতা হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। কাউকে হাজতখানা থেকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি গোয়াইনঘাটের এই ঘটনাতেই প্রথম নয়—এমন প্রশ্নও সামনে এসেছে। এর আগে সিলেট কোতোয়ালি থানার তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন মনজুরুল ইসলাম মজনু নামের এক ব্যক্তি।ওই মামলায় কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার ফয়েজ আহমদের নামও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। মামলার অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মারধর ও অর্থ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
একদিকে পুলিশের দাবি, জুবায়ের তাদের সোর্স ছিলেন এবং প্রকৃত মাদক কারবারিকে ধরতে তাকে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে জুবায়েরের স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে থানায় ডেকে এনে মামলায় জড়ানো হয়েছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অরুপ রায়কে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, কথিত ৫ লাখ টাকা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, উদ্ধার করা ট্যাবলেট আসল না নকল—এবং একই ঘটনায় একজন কথিত সোর্সকে আসামি করার প্রশ্ন।
সব মিলিয়ে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এখন জরুরি। অরুপ রায়কে সত্যিই আটক করা হয়েছিল কি না, তাকে কেন ছেড়ে দেওয়া হলো, জুবায়েরকে কী কারণে মামলায় আসামি করা হলো, উদ্ধার করা ১৩০টি ট্যাবলেটের প্রকৃত পরিচয় কী এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কোনো সত্যতা আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নির্দেশনায় সিলেট মহানগরীতে ৫ দিনব্যাপী সুস্বাস্থ্য সেবামূলক কার্যক্রমের ৪র্থ দিন সম্পন্ন
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সামাজিক সম্প্রীতি,
আহসান হাবীব লায়েক, জকিগঞ্জ : তেল-সিঁদুর, ধান-দূর্বা ও মিষ্টি দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সিলেটের জকিগঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গতকাল
মো.জুনেদ আহমদ,ফ্রান্স: ফরাসি খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্য প্রদর্শনী ‘সিয়াল প্যারিস ২০২৬’ গত
কানাইঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, একটি পিকআপ এবং রসুন-পানসহ প্রায় ২২ লাখ টাকার
মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে সিলেটে অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে শাহী ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত “সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী, শিল্প-পণ্য ও বাণিজ্য
মকবুল উমরাহ ও মদিনা শরিফের জিয়ারত নসিবের জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ ও সঠিক নিয়মকানুন জানা প্রত্যেক উমরাহ যাত্রীর