admin
প্রকাশিত: 6:00 AM, October 14, 2026
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী জনপদ। নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল ঘূর্ণিস্রোতের আঘাতে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিগত কয়েকদিনের ব্যবধানে অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ। বসতভিটা হারিয়ে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউ কুশিয়ারা ডাইকের ওপর পলিথিনের ছাউনি টাঙিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কুশিয়ারা ডাইক মেরামত করা হলেও নদীভাঙনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না জনপদ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসেই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই নদীভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন বহু মানুষ।
নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ, দীঘলবাক ও আউশকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর অপর পারে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই উপজেলার বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে বিপাকে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে কৃষিজমি। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অনেক পরিবারের ভবিষ্যৎ।
দীঘলবাক ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মোঃ ফখরু মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন দেখা দিলেও এবার কুশিয়ারা নদীর ঘূর্ণিস্রোতের আঘাতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। মাত্র এক দিনেই প্রায় ৫০০ মিটার এলাকার ধানক্ষেত নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
একই এলাকার বাসিন্দা ডা. শাহ ইউসুফ আলী বলেন, হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় অনেক পরিবার ঘরের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পায়নি। নদীর আগ্রাসনে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালেক মিয়ার বাগানসহ তাঁর বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ ঘটনায় আশপাশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
জামারগাঁও গ্রামের রইছ আলী নদীভাঙনে হারিয়েছেন বসতভিটা। ১০ সদস্যের পরিবার নিয়ে এখন কুশিয়ারা ডাইকের ওপর পলিথিনের ছাউনি টাঙিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
দীঘলবাক গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষিকা নিলুফা ইয়াসমীন বলেন, ‘পৈতৃক ভিটেমাটি ও পুরো এলাকা চোখের সামনে ভেঙে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে ভাঙনের এমন ভয়াবহ রূপ আর দেখা যায়নি।’
ব্যাপক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন তীব্র হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এলাকার ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামের বহু বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় মানুষের মধ্যে হাহাকার চলছে।
কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দীঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম জানান, গত ছয় থেকে সাত বছরের ধারাবাহিক ভাঙনে বিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১২টি ভবন, খেলার মাঠসহ সম্পূর্ণ জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে মূল অবস্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করতে হয়েছে।
আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিলাওয়ার হোসেন বলেন, নবীগঞ্জ, জগন্নাথপুর ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের মানুষ কুশিয়ারা নদীর তীরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। গত এক সপ্তাহে নদীতীরবর্তী এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনে বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।
দীঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছালিক মিয়া বলেন, ‘কুশিয়ারা নদী আমাদের জন্য এক অভিশাপ। নদীভাঙনে গৃহহারা হয়ে কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে, কেউ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকে ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। কুশিয়ারার ভাঙন আমাদের সবকিছু শেষ করে দিচ্ছে।’
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ছায়েদুর রহমান বলেন, কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে শুধু নবীগঞ্জ নয়, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচংসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে কুশিয়ারা ডাইক মেরামতের জন্য নতুন করে ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নদীভাঙনে একের পর এক পরিবার বসতভিটা হারালেও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা সহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
স্টাফ রিপোর্টার: এক কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি সরকারি সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া ও কর্মচারীদের
স্টাফ রিপোর্টার: জনগণের সেবা প্রদানের কেন্দ্রস্থল ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়কে ব্যক্তিগত ও দলীয় প্রতিবাদের স্থানে রূপান্তর করার তীব্র অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনজীবন আরও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন মেগা প্রকল্প
স্টাফ রিপোর্টার: কৃষির আধুনিকায়ন, বছরজুড়ে পরিকল্পিত সবজি উৎপাদন, উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটকে দেশের অন্যতম
স্টাফ রিপোর্টার: বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে আগামী ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘সিলেট বইমেলা-২০২৬’। নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ১২ দিনব্যাপী এ বইমেলা
জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সাচনা বাজারে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিরাপদ সবজি চাষ সম্প্রসারণে কৃষক, সার-বীজ ও
সিলেটের বিশ্বনাথে ‘অন্যরকম আইটি ও কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্বনাথ নতুন বাজারের রামপাশা