admin
প্রকাশিত: 5:27 AM, December 11, 2025
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। স্থানীয়ভাবে প্রচার আছে, বিএনপির সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জোট হলে দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
এমন অবস্থায় ‘অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ’ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তাঁরা প্রকাশ্যে বিভিন্ন সভা সমাবেশে আসনটিতে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানাচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, এ আসনে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ভোটব্যাংক’ আছে। এটা বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন ইসলামপন্থী দল বিগত একাধিক নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীর বদলে ‘জোট রাজনীতির’ অংশ হিসেবে আসনটিতে নিজেদের প্রার্থী মনোনয়ন দেয়।
তবে বিএনপির নেতাকর্মীর দাবি, আসনটিতে ইসলামপন্থী দলগুলো বিভাজিত থাকায় পৃথকভাবে সেই অর্থে কারও ভোটব্যাংক নেই। এখানে বিএনপির ভোটারই বেশি। তুলনামূলক কম ভোট থাকা সত্ত্বেও জোটের সুবিধা নিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলো দরকষাকষি করে নিজেদের প্রার্থী দিয়ে ধানের শীষের ভোট নিয়ে জয়ী হচ্ছে। এবার তাঁরা এটা হতে দিতে চান না।
স্বাধীনতার পর আসনটিতে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার জাতীয় পার্টি ও দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। এ ছাড়া বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একবার করে জয়ী হয়েছেন। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তাঁর বাবা প্রয়াত আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী সারা দেশে ‘ফুলতলী হুজুর’ হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় লোকজন জানান, আবদুল লতিফ চৌধুরীর তৈরি করা সংগঠন আনজুমানে আল ইসলাহের অসংখ্য ভক্ত ও মুরিদ আছেন। ফুলতলী অনুসারীদের সিলেট-৫ আসনে একটা ভোটব্যাংক আছে। এ অবস্থায় প্রতিটি নির্বাচনের আগেই এসব ভোট কোন প্রার্থীর পক্ষে যাবে, এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা আলোচনা থাকে। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফুলতলী হুজুরের ছেলে নিজেই প্রার্থী হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবার প্রার্থী হবেন, নাকি কোনো দলের সমর্থনে তাঁদের ভোট যাবে, এ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি বিএনপির এক শীর্ষ নেতা আল্লামা ফুলতলীর বড় ছেলে আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরীর দোয়া নিতে তার সোবহানিঘাটের বাসভবনে যান। পরবর্তীতে বিএনপি ও আল ইসলাহের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার মধ্যে যুক্তরাজ্যেও বৈঠক হয়েছে। আলোচনায় সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে পারস্পরিক সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে কথা হয়। এর মধ্যে সিলেট-৫ ও মৌলভীবাজার-২ আসন বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বিএনপির একটি ‘মধ্যপন্থী ইসলামী ভোট সমন্বয় কৌশল’। জামায়াত বিরোধী ইসলামী ভোটকে নিজেদের দিকে টানতে বিএনপি এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। ওই একবারই এখানে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হন। এরপর ২০০১ সাল থেকে জোট রাজনীতির অংশ হিসেবে বিএনপি আসনটিতে প্রতিবার ইসলামপন্থী দলের নেতাদের প্রার্থী করেছে।
২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে আসনটিতে জামায়াত নেতা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ২০০১ সালে বিজয়ী হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা উবায়দুল্লাহ ফারুক। সেবার মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও জোট রাজনীতির ভাগবাঁটোয়ারার অংশ হিসেবে শেষ পর্যন্ত উবায়দুল্লাহ ফারুক চূড়ান্ত মনোনয়ন পান।
এই বিষয়ে উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, দলের প্রার্থী হিসেবে আমি অনেক দিন ধরেই মাঠে কাজ করছি। আর বিএনপির সঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জোট হবে কি না, সেটা কয়েক দিনের মধ্যেই খোলাসা হবে। তখন আমাদের দলের কে কোথায় জোটের প্রার্থী হবেন, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।
সিলেট-৫ আসনে এবার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান (পাপলু), জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আশিক উদ্দিন চৌধুরী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসাইন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফাহিম আলম ইসহাক চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সহসভাপতি শরীফ আহমদ লস্কর প্রমুখ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীর নামও প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে।
মামুনুর রশিদ বলেন, ভোটের মাঠে অজনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও কেবল জোটভুক্ত হয়ে আসন ভাগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীরা আর মানবেন না। সবাই এখানে এবার বিএনপির দলীয় প্রার্থী দেখতে চান। কারণ, এখানে ধানের শীষের ভোটই বেশি। তাই দলীয় প্রার্থী দেওয়ার দাবি উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করার কারণে অনেকেই মনে করছেন, দল আমাকে এখানে প্রার্থী করবে। আমি মনোনয়ন পেলে এখানে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে।
বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। গত ১৭ বছর দলকে আঁকড়ে ধরে রাজনীতি করছি। দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করছি। তাই সব দিক বিবেচনা করে দল যেটা ভালো মনে করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেটাই আমরা মেনে নেব।
আঞ্জুমানে আল ইসলাহ বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আবু সালেহ কুতবুল আলম বলেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি যে মাওলানা হুসামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী প্রার্থী হবেন কি না। তবে অনেকেই চান, তিনি যেন প্রার্থী হন। সিলেটে ফুলতলী মসলকের ভোট যে কোনো নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোও এটি ভালোভাবেই জানেন।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন জেলার নায়েবে আমির আনোয়ার হোসেন খান। এখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল করিম আবরার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রেজাউল করিম জালালী, খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলার উপদেষ্টা আবুল হাসান ও ইসলামী ঐক্যজোটের ফয়জুল হক জালালাবাদী প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন। তবে জাতীয় পার্টির কারও কোনো তৎপরতা এখনো চোখে পড়েনি।
সিলেট-৫ আসন শুধু একটি আসন নয় এটি এখন ইসলামী ভোট রাজনীতির এক বড় পরীক্ষাগার। বিএনপির নীরব কৌশল, জামায়াতের আগাম ঘোষণা এবং ফুলতলী পরিবারের নীরব ভাবমূর্তি সব মিলিয়ে এ আসন ঘিরে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। এখন প্রশ্ন একটাই সিলেট-৫ কি আবারও একজন আলেমের হাতে যাবে, নাকি রাজনীতির নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হবে? উত্তর মিলবে অচিরেই, যখন নির্বাচনের ঘণ্টা বাজবে।
সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা আম্বরখানাস্থ চায়না মার্কেট ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। টানা ছয়টি
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির জীবন সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন,
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। এছাড়া, অন্যান্য
স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যুগোপযোগী, আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, গ্রিন ও ক্লিন সিলেট গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি
স্টাফ রিপোর্টার: সংবাদের মূল বক্তব্য তুলে ধরে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এসডিএ) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, “সমাজের টেকসই উন্নয়নে
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার দুই উপজেলাকে বিভক্ত করেছে কুশিয়ারা নদী। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হতো সেই সেতুর উপর একটি সেতুর মাধ্যমে। কিন্তু
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খালখনন,