admin
প্রকাশিত: 9:05 AM, August 1, 2026
নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজারের ঠিক পাশেই অবস্থিত কাষ্টঘর হরিজন (সুইপার) কলোনি এলাকা এখন ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। কলোনির সরু গলি, জটিল পথ আর পরিত্যক্ত ভবনের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে এই অপরাধের সাম্রাজ্য।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পরও অলিখিত এক মাফিয়া চক্রের কারণে কাষ্টঘর ও তার আশেপাশের এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগের আঙুল সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক দিবাকর ধর (রাম)-এর দিকে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার নিয়ন্ত্রিত বাহিনী কাষ্টঘরের মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, তীর জুয়া এবং জমি দখলসহ যাবতীয় অপকর্মের মূল চালিকাশক্তি।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অপকর্মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে দিবাকর ধর রাম গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সাম্রাজ্য। কানাডায় বাড়ি, ভারতের শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বিপুল জমি-জমা এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় তার একাধিক সম্পত্তি রয়েছে বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে।
এমনকি জিন্দাবাজারের ঐতিহাসিক জগন্নাথ জিউর মন্দিরের জমি ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে বিক্রি করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তার গড়ে তোলা বাহিনীর ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তার অনুসারীরা একইভাবে পুরো অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
কাষ্টঘর কলোনির ভেতরে প্রকাশ্যেই দেশি-বিদেশি মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা এবং ভয়ানক ড্রাগ ‘আইস’ বিক্রি হচ্ছে। হরিজন সম্প্রদায়ের ২০-৩০ জন এবং বহিরাগত ১৫-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ব্যবসা তদারকি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, মাদক ব্যবসাকে নিরাপদ রাখতে এর মজুদ শুধু কলোনিতে রাখা হয় না; বরং কৌশলে আশেপাশের কয়েকটি দোকান ও বাসায় ছড়িয়ে রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেবল সুইপার কলোনির ভেতরেই অভিযান চালায়, ফলে মূল চক্রটি সব সময়ই অধরা থেকে যায়।
হরিজন সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য জানান, কলোনির কেউ যদি মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়, তবে দিবাকর ধর রামের বাহিনী তাদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে চরম হয়রানি করে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই এই অন্ধকারের পথ থেকে বের হতে পারছে না।
সন্ধ্যা নামলেই কাষ্টঘর ও বন্দরবাজার সংলগ্ন রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীরা ছিনতাইকারীদের আতঙ্কে থাকেন। মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এখন সেখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। দিনে যারা ‘ঝাপটা পার্টি’ হিসেবে ঘোরাফেরা করে, তারাই সন্ধ্যার পর ছিনতাইয়ে নেমে পড়ে। সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাংবাদিক কিংবা সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য—কেউই এদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।
পুলিশ কোনো অভিযান চালাতে গেলে অপরাধীরা পেছনের রাস্তা বা ছাদ দিয়ে পালিয়ে যায়। অনেক সময় আড়াল থেকে পুলিশের ওপর ঢিল ছুঁড়ে হামলা চালানো হয়। কোনো ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হলেও দিবাকর ধরের অনুসারীরা কৌশলে আদালত থেকে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।
সিলেটের সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের মতে, মাঝেমধ্যে দু-একজন খুচরা বিক্রেতা বা মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে এই বিশাল অপরাধ সাময়িকভাবে কমানো সম্ভব হলেও স্থায়ী সমাধান মিলবে না।
নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—অবিলম্বে কাষ্টঘর ও এর আশেপাশের এলাকায় নিয়মিত ও সুনির্দিষ্ট চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সাথে কলোনির বাইরের গোপন আস্তানাগুলো চিহ্নিত করে মাদকের গডফাদার দিবাকর ধর রামসহ তার পুরো বাহিনীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মামলায় আসামির পরও বহাল তবিয়তে গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার মামলায় আসামি হওয়া সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের
বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক মন্দা, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ব্যতীত সিলেটে যেকোনো
স্মারকলিপি প্রদান ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) ও ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে সিলেটে সৃজনশীল পণ্য
সিলেটের পাথর ও বালুবহুল সীমান্তাঞ্চল জাফলংয়ের পাথর কোয়ারি থেকে তামাবিল স্থলবন্দর ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সীমান্তপথ দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় পণ্য প্রবেশকে কেন্দ্র করে ‘লাইনম্যান’ খ্যাত শ্যাম কালার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে সিলেটে বিএনপির
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও তথ্য পাচারের আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী সরকারি কর্মকাণে খরচ কমানো ও কৃচ্ছ্রসাধনের কঠোর নির্দেশনা চললেও সিলেট সিটি করপোরেশনে
সিলেট সদর উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং-সিলেট ৮১ এর প্রথম পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর