admin
প্রকাশিত: 5:09 AM, September 17, 2026
সরকারি কর্মকাণে খরচ কমানো ও কৃচ্ছ্রসাধনের কঠোর নির্দেশনা চললেও সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। সিলেট সফররত রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিপুল ব্যয়ের জাঁকজমকপূর্ণ নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে নগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নীতির বাইরে গিয়ে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই ধরনের বিলাসবহুল আয়োজনের পেছনে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সচেতন নগরবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানা যায়, দেশে বর্তমানে সরকারি খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নানা বিধিকৌশল গ্রহণ করেছেন। বিদ্যুৎ সাশ্রয়সহ নানা পদক্ষেপে তিনি সচিবালয়সহ সকল সরকারি দপ্তরে যাতায়াতে লিফট ব্যবহার এড়িয়ে চলছেন এবং মধ্যাহ্নভোজের খরচসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কৌশলী পদক্ষেপের বিপরীত মেরুতে হেঁটে সিসিক প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় কোটি টাকার সংবর্ধনা আয়োজন করায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারত উপলক্ষে সিলেট আসার মাত্র দু’দিন আগে বঙ্গভবনে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। কোনো নাগরিক কমিটি গঠন না করে সিসিক প্রশাসকের একক সিদ্ধান্তে এই বিপুল ব্যয়ের সংবর্ধনার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, সিসিকের আসন্ন নির্বাচনে রাষ্ট্রপতির আস্থাজনিত অবস্থান থেকে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীর ওপর থেকে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি সরাতেই প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী তড়িঘড়ি করে এই সংবর্ধনার সিদ্ধান্ত নেন। মূলত প্রশাসকের নিজ পদ কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা সুসংহত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রশাসকের এই একমুখী সিদ্ধান্তে স্থানীয় শীর্ষ রাজনীতিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সিলেট নগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেন সংবর্ধনার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ মানেই হচ্ছে সর্বস্তরের নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা। কিন্তু কোনো নাগরিক কমিটি গঠন না করে এককভাবে সিসিক প্রশাসকের এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত দুঃখজনক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংবর্ধনা ঘিরে বিশাল মঞ্চ নির্মাণ, দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা, হাই-ডেফিনিশন সাউন্ড সিস্টেম, বহুমাত্রিক প্রচারণা ও ভিআইপি আপ্যায়নে প্রায় ১ কোটি টাকার অনুমিত বাজেট ধরা হয়। তবে এত বড় বাজেটের আয়োজন হওয়া সত্ত্বেও কার্ড বিতরণে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। সিসিকের নিজস্ব কর্মচারীদের একটি বড় অংশ এবং স্থানীয় ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও প্রবেশের কার্ড পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে গুরুতর ও বিস্ময়কর অভিযোগ উঠেছে সিসিকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্পর্শকাতর তথ্য পাচার নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ও পলাতক সিসিক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত একটি বিতর্কিত সিন্ডিকেট এখনও বর্তমান প্রশাসকের আস্থাভাজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
বিশেষ করে জনসংযোগ শাখার ‘ডে লেবার’ হিসেবে কাজ করা শংকর দাসের নাম ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে। পলাতক সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের অত্যন্ত নিকটস্থ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির স্পর্শকাতর ও গোপনীয় অনুষ্ঠানেও এককভাবে ছবি তোলার অনুমতি পান। অভিযোগ রয়েছে, শংকর দাস প্রশাসকের নিজস্ব গাড়িতে যাতায়াত করেন এবং সিসিকের বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে পাচার করছেন। ত্যাগী ও যোগ্য কর্মচারীদের বাদ দিয়ে সিসিক প্রশাসক কেন এই বিতর্কিত সিন্ডিকেটের ওপর নির্ভরশীল, তা নিয়ে সিসিকের ভেতরে-বাইরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উন্নয়ন বিশ্লেষকদের মতে, এই সংবর্ধনার নামে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, ঠিকাদার বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করা হয়েছে এবং প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে অনুমোদিত বাজেটের কোনো সামঞ্জস্য আছে কি না তার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি।
বন্দরবাজারের ব্যবসায়ী সেলিম মিয়ার বলেন, আমরা শুনেছিলাম রাষ্ট্রপতি কেবল হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.)-এর পবিত্র মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেটে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করে এবং সাধারণ জনগণকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে এ ধরনের রাজকীয় সংবর্ধনার আয়োজন করা একেবারেই অর্থহীন।
তবে সিসিক সূত্রে জানা গেছে, সংবর্ধনার সব বিল এখনো জমা না হওয়ায় চূড়ান্ত ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ বিল জমা হওয়ার পর বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আসল চিত্র প্রকাশ পাবে।
এদিকে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় রোধ ও সরকারি অর্থের সঠিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সিসিক কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন সিলেটবাসী।
মামলায় আসামির পরও বহাল তবিয়তে গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার মামলায় আসামি হওয়া সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের
বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক মন্দা, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ব্যতীত সিলেটে যেকোনো
স্মারকলিপি প্রদান ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) ও ব্যবসায়িক মন্দার মধ্যে সিলেটে সৃজনশীল পণ্য
সিলেটের পাথর ও বালুবহুল সীমান্তাঞ্চল জাফলংয়ের পাথর কোয়ারি থেকে তামাবিল স্থলবন্দর ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সীমান্তপথ দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় পণ্য প্রবেশকে কেন্দ্র করে ‘লাইনম্যান’ খ্যাত শ্যাম কালার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে সিলেটে বিএনপির
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও তথ্য পাচারের আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী সরকারি কর্মকাণে খরচ কমানো ও কৃচ্ছ্রসাধনের কঠোর নির্দেশনা চললেও সিলেট সিটি করপোরেশনে
সিলেট সদর উপজেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং-সিলেট ৮১ এর প্রথম পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর