admin

প্রকাশিত: ৭:০২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২৬

সংসদে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, এমপি

সংসদে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, এমপি
  • পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে
  • লিজের মাধ্যমে বন্ধ পাটকল চালুর পরিকল্পনা সরকারের
  • পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার নানামুখী সহায়তা দিচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার:

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানিয়েছেন, দেশে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ পরিকল্পনায় উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত মানসম্পন্ন পাট ও পাটবীজের উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তির স¤প্রসারণ এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার সংসদে নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, ‘উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং বিতরণ’ শীর্ষক একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এই সমীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী নভেম্বর, ২০২৬ হতে মূল প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং পাটের গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সরাসরি কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পাট অধিদপ্তর কর্তৃক ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং স¤প্রসারণ’ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, যা জুন ২০২৬-এ সমাপ্ত হওয়ার জন্য নির্ধারিত। চলমান প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও অর্জনসমূহ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ে আরো সমন্বিত, যুগোপযোগী ও ফলপ্রসূ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সামগ্রিকভাবে উল্লিখিত উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন, বাজারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাটখাতকে একটি টেকসই, প্রতিযোগিতামূলক ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

লিজের মাধ্যমে বন্ধ পাটকল চালুর পরিকল্পনা সরকারের
বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো লিজের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সংসদে নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ১৪টি পাটকল লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এসব লিজপ্রাপ্ত পাটকলে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন হচ্ছে। আরও ৬টি পাটকল লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি)-এর অধীন নরসিংদী জেলার তিনটি পাটকল এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেড এবং ইউএমসি জুট মিলস লিমিটেড—এই দুটি পাটকল ইতোমধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডে প্রতিদিন প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন হচ্ছে, আর ইউএমসি জুট মিলস লিমিটেডে সোয়েটার উৎপাদন করা হচ্ছে। এই দুটি পাটকলে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ শ্রমিক কাজ করছেন। অবশিষ্ট পাটকল কো-অপারেটিভ জুট মিলস লিমিটেড লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার নানামুখী সহায়তা দিচ্ছে

দেশের পাটখাতকে আরো শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী নীতি সহায়তা প্রদান করছে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি বলেন, পাটকলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সংসদে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

মন্ত্রী পাটখাতের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং সরকারের চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, পাট ও পাটজাত পণ্য অতীতের জৌলুস হারিয়েছে এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক ও বায়োডিগ্রেডেবল তন্তু হিসেবে পাটের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। দেশের পাটকলগুলো তাদের বিদ্যমান সক্ষমতা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ বাজার স¤প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট পণ্যের মোড়কীকরণে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশীয় বাজারে পাটের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পাটখাতের উন্নয়নে সরকার সংশ্লিষ্ট শিল্পমালিকদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও পরামর্শ সভা আয়োজন করা হচ্ছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এছাড়া, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাজার ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটখাতকে আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘পাট আইন, ২০১৭’ এবং ‘জাতীয় পাটনীতি, ২০১৮’ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার স¤প্রসারণের মাধ্যমে পাটখাতের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পাটশিল্পকে আরো শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাটশিল্প আবারো দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পখাত হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পাবে।


সর্বশেষ সংবাদ

‎সিলেটে অনূর্ধ্ব-১৫ জেলা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

‎সিলেটে অনূর্ধ্ব-১৫ জেলা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

‎‎’ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২০২৬-এর আওতায় সিলেট জেলায় অ্যাথলেটিক্স

কানাইঘাটে বিয়ের প্রলোভনে ধ র্ষ ণে র অভিযোগে যুবক গ্রে ফ তা র

কানাইঘাটে বিয়ের প্রলোভনে ধ র্ষ ণে র অভিযোগে যুবক গ্রে ফ তা র

কানাইঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাটে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাজু আহমদ (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার

সীমান্ত পেরিয়ে ফেরার পথে গুলি, জকিগঞ্জের ডিপজলকে ঘিরে অনিশ্চয়তা

সীমান্ত পেরিয়ে ফেরার পথে গুলি, জকিগঞ্জের ডিপজলকে ঘিরে অনিশ্চয়তা

আহসান হাবীব লায়েক, জকিগঞ্জঃ সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্তে আবারও গুলির ঘটনা। এবার ভারতের সীমান্তবর্তী তিন্নখাল এলাকায় মহিষ আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দকে সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সংবর্ধনা

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দকে সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সংবর্ধনা

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের নবগঠিত কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে সিলেট ব্যবসায়ী সমিতি। সোমবার (১৫ জুন)

সিলেটে পয়ঃবর্জ্য কর্মীদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা প্রশিক্ষণ ও পিপিই বিতরণ

সিলেটে পয়ঃবর্জ্য কর্মীদের স্বাস্থ্য-সুরক্ষা প্রশিক্ষণ ও পিপিই বিতরণ

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার মূল শক্তি: সিসিক প্রশাসক সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই পরিচ্ছন্ন নগর

ট্রাফিক সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প নিচ্ছে সিসিক

ট্রাফিক সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প নিচ্ছে সিসিক

সিলেটের আলোচিত হত্যা মামলাগুলোর দ্রুত বিচার প্রত্যাশা সিলেট নগরীতে অপরাধ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে

সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মাণ কাজ উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক

সড়ক সম্প্রসারণ ও ড্রেন নির্মাণ কাজ উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক

নগরীর প্রত্যেকটি পাড়া-মহল্লার রাস্তা সম্প্রসারণ করছি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নগরবাসীর নিরাপদ ও নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিত

অবহেলার অন্ধকারে চারিকাটা যেখানে এখনো বেঁচে আছে প্রাচীন বাংলার ছাপ

অবহেলার অন্ধকারে চারিকাটা যেখানে এখনো বেঁচে আছে প্রাচীন বাংলার ছাপ

শুয়াইবুর রহমান: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের বালিদাড়া, কুমারপাড়া, নয়াখেল ও ভিতরিখেল গ্রামের চিত্র যেন এখনো কয়েক দশক আগের গ্রাম