admin
প্রকাশিত: 6:27 AM, September 25, 2026
স্টাফ রিপোর্টার:
শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি, কাস্টমসকে পাশ কাটিয়ে অবৈধ ট্রাক পারাপার এবং জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের মতো গুরুতর অভিযোগে ফের আলোচনায় এসেছেন রফিকুল ইসলাম শাহপরাণ। পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় ২ নম্বর আসামি হিসেবে তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার পরও তিনি প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তামাবিল স্থলবন্দর ও জাফলং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, আদালত থেকে জামিন নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও শাহপরাণকে নিয়মিত তামাবিল স্থলবন্দর ও জাফলং এলাকায় দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একজন মামলার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের কোনো বাধা রয়েছে কি না।জাফলংয়ে পাথর ও বালু লুটের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা দুটি মামলায় মোট ১১৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে রফিকুল ইসলাম শাহপরাণের নামও ওই মামলার আসামি হিসেবে এসেছে।
সম্প্রতি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেন শাহপরাণ। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন।তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ অস্বীকার করলেই নথিভুক্ত মামলা বা তদন্তের বিষয়গুলো শেষ হয়ে যায় না। তাদের প্রশ্ন—কাস্টমসের ছাড়পত্র ছাড়াই ১৪টি বিশালাকার ট্রাক বের করে নেওয়া, এন্ট্রি ছাড়া ভারতীয় পণ্য খালাস এবং গেট পাসের নামে কথিত অর্থ আদায়ের অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা কোথায়?
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মোকাবিলা এবং অবস্থান শক্ত করতে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে সংবাদ ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। জাফলংয়ের পাথর ও বালু লুটের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় শাহপরাণের নাম আসামি হিসেবে থাকার বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। জাফলংয়ের ইসিএ এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর লুটের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করে এবং ওই মামলায় শাহপরাণসহ ১১৪ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সময় জাফলং এলাকায় ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি, ওই সময় শাহপরাণ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে পাথর-বালু লুটের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় তার নাম আসায় দলের ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শাহপরাণ একসময় সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও সিলেট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়ে ছিলেন। ওই রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি জেলা পরিষদের সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।অবৈধভাবে পণ্য খালাস, ট্রাক পারাপার এবং গেট পাসের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে শাহপরাণের বিরুদ্ধে তামাবিলকেন্দ্রিক নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কাস্টমসের নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে কোনো ট্রাক বা পণ্য পারাপার হয়ে থাকলে সেখানে কেবল ব্যক্তির ভূমিকা নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।একই সঙ্গে রাতের আঁধারে সীমান্তপথে চোরাচালান, তামাবিল স্থলবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে কথিত দৈনিক চাঁদাবাজি এবং বিগত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—মামলার আসামি হিসেবে নাম থাকার পরও যদি কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান, তাহলে তার বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ, জামিনের নথি কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বর্তমান অবস্থা কী?
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল এড়িয়ে যান অথবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো দখলদারি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে দলমত নির্বিশেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তামাবিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। অন্যদিকে জাফলং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ও পর্যটন সম্পদ। এসব এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগের প্রভাব শুধু স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নয়, পরিবেশ ও সরকারি রাজস্বের ওপরও পড়তে পারে।তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে কেবল সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য বা পাল্টা বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে কাস্টমস, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা।তাদের দাবি, কার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য, কার বিরুদ্ধে নয়—তা তদন্তেই স্পষ্ট হোক। একই সঙ্গে কোনো মামলা বা ওয়ারেন্টের আইনগত অবস্থা থাকলে সেটিও প্রকাশ্যে পরিষ্কার করা হোক। রাষ্ট্রের রাজস্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর ও নিরপেক্ষ আইনগত পদক্ষেপ।
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হয়েও প্রকাশ্যে শাহপরাণ, তামাবিলে অবৈধ ট্রাক পারাপার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ স্টাফ রিপোর্টার: শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি, কাস্টমসকে
স্টাফ রিপোর্টার: এক সময়ের ছোট পৌরসভা থেকে আজকের নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত আধুনিক সিলেট নগরী হিসেবে গড়ে ওঠার ইতিহাস খুব
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট সদর উপজেলা যুবদলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঈন আহমদকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও চরম বিতর্কের
স্টাফ রিপোর্টার: আধ্যাত্মিক ও পর্যটন নগরী সিলেটকে একটি মডেল ও আধুনিক স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার নেপথ্যে ভূমিকা রেখে চলেছেন
* টোকেনের আড়ালে অবৈধের সাম্রাজ্য চোরাই গাড়ি, নগরের অন্তত ৫০ এলাকায় অবৈধ স্ট্যান্ড আহমেদ শাকিল : সিলেট নগরের সড়কে দিন
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের খোজারখলা এলাকার বাসিন্দা আকবর প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে জুয়ার আসর
স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সিলেট মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আহমদ সুমনের বিরুদ্ধে গোপনে দলীয়
স্টাফ রিপোর্টার: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির