admin

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬

সিলেটের ৬টি আসন: বিজয় মিশনে বিএনপি হারের পথে জামায়াত

সিলেটের ৬টি আসন: বিজয় মিশনে বিএনপি হারের পথে জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার:
ত্রয়োদশ নির্বাচনে ডামাঢোল বাজছে। চারদিকে ভোটের আলাপ। একতরফা ভোট, রাতে ভোট ও আমি-ডামি ভোটের পর মানুষের মধ্যে তেরি হয়েছিল এক আস্থা-বিশ্বাসহীন ভোট মানসিকতা। এবারকার ভোট সেই ধারনাকে করেছে ইউটার্ন। মানুষ পুরোদমে ভোট রাজনীতিতে ব্যস্ত। প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন সর্বোচ্চ শক্তিতে। সর্বত্র এক আলোচনা ভোট নিয়ে। এসবের মধ্যেও সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা অনেকটা নির্ভার। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিপক্ষদের হবে যোজন যোজন। এই চার প্রার্থী হলেন সিলেট-১ আসনের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনের তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের এমএ মালিক ও সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী। তবে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনেও বিজয় পেতে পারে ধানের শীষ তথা বিএনপির শরীক। দরকার কেবল বঞ্চিতদের সহযোগিতা। তবে লড়াই করবে জামায়াতও। সেই লড়াইয়ে বিজয়ে মিশনে কোমর বেধে মাঠে আছে বিএনপি।
সিলেট-১ : সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকা ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ নির্বাচনী এলাকা। ওই আসনে মোট ভোটার ছয় লাখ ৮০ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার তিন লাখ ৫৩ হাজার ১৮৬ জন ও নারী ভোটার তিন লাখ ২৭ হাজার ৭৪৭ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন।
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট আট জন প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া (আপেল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে সঞ্চয় কান্ত দাস (কাঁচি)।
এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এ দুই প্রার্থীই সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন ইতিপূর্বে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন ওই আসনে ২০১৮ সালে। অপরদিকে জামায়াতে কেন্দ্রীয় মসলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমির এবং ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেটের ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান এই আসনে প্রার্থী হিসেবে নতুন হলেও ২০০৮ সালে সিলেট-৬ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।
অপরদিকে, এই আসনকে দেশের মর্যাদা পূর্ণ নির্বাচনী আসন হিসেবে বিবেচিত করা হয়। ভোটের রাজনীতিতে প্রচলিত একটি মিথও আছে। বলা হয়, ‘সিলেট-১ আসন যার-সরকার তার’। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সব ক’টি জাতীয় নির্বাচনে এই মিথ একবারের জন্যও মিথ্যে হয়নি। মর্যাদার এই আসনে যে দল বিজয়ী হয় সেই দলই সরকার গঠন করে আসছে। সেই ধাাবাহিকতা এখনও চলমান রয়েছে। অর্থাৎ সিলেট-১ আসনটি যার সরকারও তার। হযরত শাহজালাল (রহ:) ও হযরত শাহপরাণ (রহ:)সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত পূণ্যভূমির এই আসনটি সব দলেরই কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এটা মাথায় রেখে মাজার জিয়ারত এবং জনসভার মধ্যে দিয়ে সিলেট থেকেই শুরু হয় সব দলের নির্বাচনী প্রচারণা। সরকার গঠন করার বিষয়টি মাথায় রেখে মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে শক্তিশালী প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ১৯টি আসনের মধ্যে বিএনপির হয়ে খন্দকার আব্দুল মালিক শুধু সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপরও বিএনপিই সরকার গঠন করে। সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সাল থেকে মিথ প্রচলিত হলে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার সূত্রপাত হয় আশির দশকে জাতীয় নির্বাচন থেকে। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলের ১৯টি আসনের মধ্যে শুধু সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মালিক। বিএনপিই সরকার গঠন করে। এরপর স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান, দুই মেয়াদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নির্বাচন করে বিজয়ী হন। সরকার গঠন করে যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ২০১৮ সালে এ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন মুহিতের ছোট ভাই ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করলে মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিলেট-১ আসনে একতরফা নির্বাচনে এ কে আব্দুল মোমেন জয়ী হন। তখনো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
সিলেট-২ : প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসন। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬৮ হাজার ৯৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৯ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৮০ হাজার ২৫৩ জন।
এই আসনে শেষ মুর্হূতে এসে প্রার্থী বদল করেছে ১১ দলীয় জোট। জামায়াত প্রার্থীকে সরিয়ে জোটের প্রার্থী এখন খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী। অপরদিকে, এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হলেন বিএনপি নেতা নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। এছাড়া আসনটির অপর তিন প্রার্থী হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল) ও গণফোরামের মো. মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য)। এ আসনে ধানের শীষের পালে হাওয়ার অন্যতম শক্তি নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর প্রতি মানুষের আবেগ। সেই আবেগ ভোটের জোয়ারে বিজয় নিশ্চিত করবেন বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। এ আসনেও আসলে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা নয়। লুনা ও তার কর্মী সমর্থকরা বিজয় নিয়ে অনেকটাই নির্ভার বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। তারপরও ভোটের অংকে প্রতিদ্বন্দ্বিয়তায় থাকবেন জামায়াত জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী।
সিলেট-৩ : সিলেটের প্রবেশদ্বার খ্যাত দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। এ আসনে চার লাখ ১৬ হাজার ভোটার। এর মধ্যে এ আসনে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ১১ হাজার ৭০৯ জন ও নারী ভোটার দুই লাখ চার হাজার ২৮৯ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুই জন।
সিলেট-৩ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন ছয় প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল মালিক (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (লাঙ্গল) ও খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু (রিকশা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী (হাতপাখা)। এছাড়া দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (ফুটবল) ও মইনুল বকর (কম্পিউটার)।
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ। অনেক ভোটারই বলছেন, মালিকের জন্য শক্ত চ্যালেঞ্জ হতে পারতেন মাওলানা লোকমান আহমদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোট রাজনীতির বলি হতে হয়েছে তাকে। জামায়াত সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে। আল্লামা গহরপুরী (র.) এর সন্তান হিসাবে তার একটা ভোট ব্যাংক আছে, সেটা সবাই স্বীকার করছেন। তবে সেটা বিএনপি প্রার্থী এমএ মালিকের জন্য চ্যালেঞ্জর পর্যায়ে যে নেই, সে কথাও বলছেন তারা। এ আসনে এমএ মালিকও নির্ভার।
সিলেট-৪ : প্রাকৃতিক সম্পদের রাজ্য গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ-জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৬৭ হাজার ১৩০ জন ও নারী ভোটার দুই লাখ ৪৫ হাজার ৮০২ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোট রয়েছে একটি।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা পাঁচ জন। এরমধ্যে বিএনপি আরিফুল হক চৌধুরী ও জামায়াত ইসলামীর জয়নাল আবেদীন ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জাহিদ আহমেদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (লাঙ্গল)।
এখানে ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন আরিফুল হক চৌধুরী। আর জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। শুরুর দিকে বিএনপির প্রার্থী বিষয়ক জটিলতা দেখে সবাই ধরে নিয়েছিলেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হয়ত শক্ত চ্যালেঞ্জে পড়তে যাচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির গৃহবিবাদ এখন আর নাই। ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ সবাই। এ অবস্থায় জামায়াতের জয়নাল আবেদীন খুব একটা ম্যাজিক দেখাতে পারবেন বলে মনে করছেন না কেউ-ই।
সিলেট-৫ : দেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী এলাকা কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন। এআসনে মোট ভোটার চার লাখ ২৮ হাজার ৭৪৮টি। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ২১ হাজার ৩৫৭ জন ও নারী ভোটার দুই লাখ সাত হাজার ৩৯১ জন। এ আসনে কোন তৃতীয় লিঙ্গের ভোট নেই।
এবারের নির্বাচনে এ আসন থেকে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি সমমনা জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াত সমমনা নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত মামুনুর রশিদ ওরফে চাকসু মামুন (ফুটবল প্রতীকে)। এছাড়া নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন মুসলিম লীগের মাওলানা বিলাল উদ্দিন (হারিকেন প্রতীকে)।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী। এদিকে, বিএনপি জোট থেকে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে মনোনয়ন দেওয়া হলেও দলের মনোনয়ন বঞ্চিত মামুনুর রশিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলায় কিছুটা চাপে পড়েছেন তিনি। বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের নির্দেশনার বাইরে যেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কজের অভিযোগে ইতিমধ্যে নয় নেতাকর্মীকে বহিস্কার করেছে বিএনপি।
অন্যদিকে, এ আসনে জামায়াতের হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। দিনশেষে জোটের সমীকরণে খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসানকে ছাড় দেয়ায় বর্তমানে তারা দেয়াল ঘড়ির পক্ষে মাঠে সরব। যদিও কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলায় খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে দুর্বল। তবে রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও একজন জনপ্রিয় ওয়াজি হিসেবে মুফতি আবুল হাসানের পরিচিতি ব্যাপক। আলেম-উলামা অধ্যুষিত এই আসনে দুই আলেম প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। চূড়ান্ত দিনে বিএনপি সমর্থিত জমিয়ত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল হক ও জামায়াত সমর্থিত মাওলানা আবুল হাসনাতের মধ্যে নির্ধারণ হবে জয়-পরাজয়।
সিলেট-৬ : প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন। এই আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ নয় হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৬ হাজার ৯৩৮ জন ও নারী ভোটার দুই লাখ ৫২ হাজার ১৫৫জন।
এই আসনে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট পাঁচ প্রার্থী। তারা সবাই ভোটের মাঠে নবাগত। তবে প্রচারে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বড় দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে মাঠে থাকা হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থী হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলামও। ভোটের মাঠে হেলিকপ্টার প্রতীকে ইতিমধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের জহিদুর রহমান (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর (লাঙ্গল)।
এ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি দুইবার ও ধানের শীষ একবার এবং দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী এছাড়া বাকী সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এখানে বিজয়ী হয়েছিল। এই আসনে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে জামায়াত কয়েকবার অংশ নিলেও তেমন কোন সুবিধা করতে পারেনি। তবে এবার আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে জামায়াত এখানে বিএনপির শক্ত প্রতিপক্ষ। বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, জামায়াতে প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের মধ্যে হবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।


সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় পুরস্কার অর্জন করায় আর্ট এন্ড অটিস্টিক স্কুলকে সংবর্ধনা

জাতীয় পুরস্কার অর্জন করায় আর্ট এন্ড অটিস্টিক স্কুলকে সংবর্ধনা

সিলেটের সংবাদ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সিলেট আর্ট এন্ড

নগর ভবনে প্রস্তুতি সভায় সিসিক প্রশাসক

নগর ভবনে প্রস্তুতি সভায় সিসিক প্রশাসক

৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে সিলেটের সংবাদ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন,

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এ গোল্ড মেডেল পেল মারিয়া মেহজাবিন মাওয়া

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এ গোল্ড মেডেল পেল মারিয়া মেহজাবিন মাওয়া

‎‎সিলেট সিটি করপোরেশনের চৌকিদেখী এলাকার শাহপরান প্রি-ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষার্থী মারিয়া মেহজাবিন মাওয়া “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” প্রতিযোগিতার উশু ইভেন্টে গোল্ড মেডেল

টেন্ডার ছাড়াই পিয়াইন নদীতে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি

টেন্ডার ছাড়াই পিয়াইন নদীতে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি

ড্রেজারে বালু কাটছে আলীম সিন্ডিকেট স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে, কোনো প্রকার টেন্ডার বা ইজারা ছাড়াই সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার

সুরমা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে মসজিদ স্কুল কবরস্থান ও বাজার

সুরমা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে মসজিদ স্কুল কবরস্থান ও বাজার

সাকির আমিন, ছাতক: সুনামগঞ্জের ছাতক সদর ইউনিয়নের আন্ধারী গাঁও,মল্লিক পুর,কেশব পুর ও বাউশা ডহর (গভীর) নামক স্থানে সুরমা নদীর ভাঙনে

সিলেট সদর উপজেলার পুটিকাটা বিল জলমহালের ইজারা পেয়েছে চাতল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড

সিলেট সদর উপজেলার পুটিকাটা বিল জলমহালের ইজারা পেয়েছে চাতল মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড

সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নাধীন পুটিকাটা বিল জলমহাল ১৪৩৩-১৪৩৫ বাংলা সনের চৈত্র পর্যন্ত সময়ের জন্য বার্ষিক ৩,০৮,২২৪ (তিন লক্ষ আট

সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের লিফলেট বিতরণ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: অ্যাড. মোমিনুল ইসলাম মোমিন

সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের লিফলেট বিতরণ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: অ্যাড. মোমিনুল ইসলাম মোমিন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সবসময়ই জনগণের আকাঙক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত

জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ ভাগ বরাদ্দের দাবিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ ভাগ বরাদ্দের দাবিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দ ও হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ১০দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক