admin
প্রকাশিত: 4:16 AM, November 25, 2025
দেশের অন্যতম ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল সিলেট দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সক্রিয় ফল্ট লাইন, অতীতের ভূকম্পন ইতিহাস এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় সিলেটকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রশ্ন থেকে যায় সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলায় সিলেট কতটা প্রস্তুত?
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভবন কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ নির্মাণই ভূমিকম্প সহনীয় মানদণ্ড মেনে করা হয়নি। পুরোনো ভবনগুলোর গঠনগত দুর্বলতা, অযাচিত নগরায়ণ, ঘনবসতি এবং সংকীর্ণ সড়ক পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মুশতাক আহমদ বলেন, সিলেট প্রকৃতিগতভাবে “ডেঞ্জার জোন”-এ রয়েছে। ডাউকি ফল্টের নিকটবর্তী হওয়ায় অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আর অপরিকল্পিত নগরায়ণ সিলেটকে আরও অরক্ষিত করেছে।
একই বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম জানান, সিলেট যে টেকটোনিক প্লেটে অবস্থিত, তা প্রতি ১০০ বছরে এক মিটার সরে যাচ্ছে। ফলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
১৮৯৭ সালের ৮.৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে সিলেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ইতিহাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, হাওর-বিল ভরাট করে, পাহাড়-টিলা কেটে নির্মাণকাজ চলতে থাকায় বিপদের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক বছরে ঘনঘন ছোট ও মাঝারি ভূমিকম্পে সিলেটজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিলেও নগরব্যাপী বাস্তবমুখী প্রস্তুতি নেই বললেই চলে।
জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র, ওপেন স্পেস, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম—কোনো ক্ষেত্রেই সিলেট প্রস্তুত নয়। জনগণের মধ্যেও নেই সচেতনতা; অধিকাংশ মানুষই জানেন না ভূমিকম্পের সময় করণীয় কী।
এদিকে সিলেটে মাঝারি মানের ভূমিকম্প হলেও তার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার সক্ষমতা নেই ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সেরও। সিলেট বিভাগের ৩৮ উপজেলার মধ্যে মাত্র ১৪টিতে ফায়ার স্টেশন রয়েছে। সেগুলোতে আবার তেমন কোনো যন্ত্রপাতি নেই।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সিলেটের অনেক বহুতল ভবনই নির্মাণ করা হয়েছে অনুমোদনহীনভাবে। অলিগলির রাস্তাও সরু। ফলে আমাদের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। এ ব্যাপারে নগর কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রায় এক যুগ আগে বাংলাদেশ, জাপান ও শ্রীলঙ্কার বিশেষজ্ঞদের যৌথ জরিপে সতর্ক করা হয়েছিল মাত্র ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও সিলেটের ৭০-৮০% ভবন ধসে পড়তে পারে। ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা, প্রাণহানি হতে পারে ৭/৮ লাখ মানুষ।
আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসেন জানান, ডাউকি, ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটসহ কমপক্ষে ১০টি সক্রিয় ফল্ট সিলেট অঞ্চলে রয়েছে। ৬ মাত্রা বা তার বেশি তীব্রতার ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সিলেটে জরুরি ভিত্তিতে ভবন তদারকি, নগর পরিকল্পনা, উদ্ধার কাঠামো, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে না পারলে সামান্য মাত্রার ভূমিকম্পও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
গত চার-পাঁচ বছর থেকে কয়েক দফা ছোট ও মধ্যম ভূমিকম্প হওয়ায় সিলেটজুড়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। ২০২১ সালে ঘনঘন ভূমিকম্পন অনুভূত হয়। দিনে ৫-৭ বারও ভূমিকম্প হয়েছে। এ নিয়ে সিলেটে নেই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও উদ্ধারকাজ চালানোর মতো কোনো প্রস্তুতি ও সচেতনতা। যখনই ভূমিকম্প হয় তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে সিলেট সিটি করপোরেশন। কিন্তু তারপর তা আবার আলোচনার আড়ালে চলে যায়।
সিসিক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে সবশেষ সিলেটের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর ব্যাপারে জরিপ চালানো হয়েছিল। এতে ৩২টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেগুলো তখন ভেঙে ফেলার উদ্যোগও নেয়া হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতায় সে কাজ এগোয়নি।
স্টাফ রিপোর্টার: বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুকের ফ্রান্স সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন, আয়কর আইন ও বিধিমালা অত্যন্ত গতিশীল। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাজস্ব সংগ্রহে
গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সিলেট জেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক মো:
বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিহাসে চা শিল্প একটি গৌরবময় অধ্যায়। সবুজে মোড়ানো সিলেটের পাহাড়ি ঢালে বিস্তৃত চা-বাগান শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়;
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ) জাতীয় কমিটি ও সিলেট অঞ্চল কমিটির যৌথ উদ্যোগে
কর অঞ্চল-সিলেটের কর কমিশনার ভূবন মোহন ত্রিপুরা বলেছেন, করদাতাদের নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত
সিলেটের কণ্ঠ ও যন্ত্রশিল্পীদের সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ‘সিলেট মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন’-এর ২০২৬–২০২৯ মেয়াদের ২১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।