admin
প্রকাশিত: ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার:
হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর পুণ্য স্মৃতিধন্য সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনটি ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি হিসেবে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই আসনে যে জয় পায়, সে-ই সরকার গঠন করে। এ কারণে প্রতি বার ভোটের আগে ভিন্ন মাত্রার কৌতুহলের কেন্দ্র বিন্দুতে থাকে সিলেট-১ আসন। সিলেট সদর ও মহানগর নিয়ে গঠিত মর্যাদার এই আসনে এবার ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে চ্যালেঞ্জ করছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী, সিলেট জেলা শাখার আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান। বিএনপি এ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ের পথে। অন্যদিকে, জামায়াত মনে করছে, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জয়ের ফসল ঘরে তুলবে তারা। দেশের রাজনীতিতে সিলেট-১ আসন বরাবরই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। সিলেট মহানগর এলাকা ও সদর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসন কেবল ভোটের অঙ্কে নয়, প্রতীকি অর্থেও বড়। ফলে মর্যাদার এ আসনটিতে বরাবরই বাড়তি গুরুত্ব দেয় রাজনৈতিক দলগুলো। তবে এবারের নির্বাচনী মাঠে দৃশ্যপট আগের চেয়ে ভিন্ন। প্রার্থী বাছাই, মাঠপর্যায়ের রাজনীতি, প্রচারণার গতি ও ভোটারদের মনোভাব পর্যালোচনা করে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের মনে করছেন, তাদের দিকেই ভারী জয়ের পাল্লা।
সিলেট-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ কয়েকটি দলের প্রার্থী রয়েছেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে মূল লড়াইটা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মুক্তাদির। সিলেটের রাজনীতিতে তিনি পরিচিত নাম। বহু বছর ধরে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সামাজিক পরিসরেও তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি ‘হঠাৎ করে আসা’ কোনো প্রার্থী নন-এটাই তাঁর বড় শক্তি।
খন্দকার মুক্তাদিরের পিতা খন্দকার আব্দুল মালিকও ছিলেন এই আসনে ৩ বারের এমপি। ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি মর্যাদাপূর্ণ আসন সিলেট-১ থেকে এমপি নির্বাচিত হন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজনীতিতে অভিষেক হয় খন্দকার মুক্তাদিরের। বিগত প্রায় দুই দশক ধরে সিলেট সদর ও মহানগরীতে সক্রিয় রয়েছেন খন্দকার মুক্তাদির। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি ছিলেন এই আসনে তৎকালীন চার দলীয় জোটের প্রার্থী।
সেই নির্বাচনে তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নির্বাচন করেও প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ভোট পান। তবে, জাল জালিয়াতির সেই নির্বাচনে তাকে পরাজিত হতে হয় আওয়ামী লীগ প্রার্থী একে আব্দুল মোমেনের কাছে। কিন্তু, নির্বাচনের পরও মাঠ ছাড়েননি তিনি। গত ৮ বছর ধরে দলের রাজনীতিতে যেমন সক্রিয় ছিলেন, তেমনি মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে। ফলে, ব্যক্তিগতভাবে এ আসনে খন্দকার মুক্তাদির একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এ আসনে প্রার্থী করেছে তাদের জেলা শাখার আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানকে। সিলেটে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত একটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান তিনি।
জামায়াতে ইসলামী বলছে, সিলেট মহানগরী ও সিলেট সদর উপজেলায় তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত। মাওলানা হাবিবুর রহমানের পক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, দেশ এখন দুটি ভাগে বিভক্ত। একদিকে, জামায়াতের নেতৃত্বে আলেম ওলামাদের সিংহভাগই তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সিলেট নগর ও সদর উপজেলায় জামায়াতের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে, এবার সিলেট-১ আসনটি নিজেদের করে নিতে তাদের বেগ পেতে হবেনা বলে মনে করছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জোটগত কারণে মাওলানা হাবিবুর রহমানের অবস্থান সুদৃঢ় হলেও সিলেট-১ আসনের বৃহত্তর পরিমন্ডলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পরিচিতি অর্জনে এখনো বেগ পেতে হচ্ছে মাওলানা হাবিবুর রহমানকে। তিনি মূলতঃ সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন কেন্দ্রিক রাজনীতি করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনও করেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে সিলেট-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে জামায়াত। গত দু’বছর ধরে তিনি সিলেট সদর ও মহানগরীতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপির কৌশল ছিল স্পষ্টতঃ মাঠে থাকতে হবে, মানুষের কাছে যেতে হবে। নগরের ও সদরের অলিগলি সব জায়গায় নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা ও ছোট ছোট সমাবেশ করছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির। প্রচারণায় বড় মঞ্চের চেয়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগে জোর দিচ্ছেন তিনি। ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের ক্ষোভ, হতাশা ও প্রত্যাশার কথা শোনার চেষ্টাও করছেন। ফলে ভোটারদের মধ্যে সহজেই বাড়তি নজর কেড়ে নিয়েছেন মুক্তাদির। ভোটের আগেই এর সুফলও পাচ্ছেন তিনি। তাঁর উঠান বৈঠক কিংবা পথসভা রীতিমতো বড় আকারের সমাবেশে পরিণত হচ্ছে। একই অবস্থা প্রচার মিছিলেও। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে ধানের শীষের কর্মসূচি প্রতিদিন বিশাল সমাবেশে রূপ নিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থানের পেছনে আরেকটি বড় কারণ দলীয় ঐক্য। জেলা বিএনপি, মহানগর বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো একই সুরে কথা বলছে, প্রচারণা চালাচ্ছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসারে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের পক্ষে বিরামহীন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, জামায়াতের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে নগর কেন্দ্রিক। তাদের নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেছে তারা। মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টায় তাদের কমতি নেই। মাঠের প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলটি সক্রিয়।
শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন আইনজীবীরা। আইনজীবীদের
সরকারি কলেজে কর্মরত বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিতকরণ ও রাজস্বখাতে স্থানান্তরের ৪ দফা দাবিতে সিলেটে বিভাগীয় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি
যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি, সিলেট বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক এবং কিংবদন্তি সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল কাদির সমছু সংক্ষিপ্ত যুক্তরাজ্য সফর শেষে
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: একমাসে তিন বার চুরি হওয়া বিশ্বনাথ উপজেলার আলোচিত বিদ্যালয় লামাকাজী ইউনিয়নের সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চুরি ঘটনাটি পেপার
স্টাফ রিপোর্টার: টাকায় কেনা যায় না এমন কিছুই যেন নেই তার কাছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তার দাপটে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১২ সদস্যের কমিটি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
স্টাফ রিপোর্টার: আগামী মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ফলাফল দৃশ্যমান হবে। জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসতে পারে বলে
প্রফেসর ডা. ফজিলা-তুন-নেছা মালিক। বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্ঠা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন (অব.) বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও