admin
প্রকাশিত: 11:34 AM, February 21, 2026
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তর জনপদ তার স্বতন্ত্র ইতিহাস ও ঐতিহ্যে চিরভাস্বর। আতিথেয়তা আর সংস্কৃতির মায়াবী বন্ধনে আবদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষের কাছে রমজান মাস মানেই এক উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য ও শত বছরের পুরনো একটি প্রথা হলো—মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ইফতার পাঠানো, যা স্থানীয় ভাষায় ‘ফুড়ির বাড়ি ইফতারি’ নামে পরিচিত। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই রীতি যেমন আভিজাত্যের প্রতীক, তেমনি অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য তা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক অদৃশ্য সামাজিক বোঝা।
সিলেটের প্রবীণদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, নতুন জামাইয়ের বাড়িতে ইফতারি দেওয়ার এই প্রথা মূলত তিন দফায় সম্পন্ন হয়।
প্রথম রমজানেই ঘরে তৈরি হরেক পদের পিঠা-পায়েস ও ফলমূল নিয়ে কনের আত্মীয়রা জামাই বাড়ি ছোটেন। এই তালিকায় থাকে সন্দেশ, ছই পিঠা, চিতল, চুঙ্গা পিঠা থেকে শুরু করে নুনগরা ও তালের পিঠার মতো ঐতিহ্যবাহী সব পদ।
১০ থেকে ২০ রমজানের মধ্যে চলে দ্বিতীয় দফার আয়োজন। বিশাল ‘খাঞ্চা’ বা থালায় সাজিয়ে পাঠানো হয় ছানার মিষ্টি, জিলাপি, বাখরখানি, পোলাও, চপ এবং মৌসুমি ফল।
রমজানের শেষ সপ্তাহে ইফতারের সাথে যুক্ত হয় জামাই বাড়ির সবার জন্য ঈদের নতুন কাপড় ও ঈদ কার্ড। কনের বাবা-চাচা বা বড় ভাইরা গর্বের সাথে এই সওগাত নিয়ে যান এবং জামাই বাড়ির সবাইকে ঈদে বেড়াতে আসার দাওয়াত দিয়ে আসেন।
ঐতিহ্যের এই জৌলুস সবার জন্য সুখকর নয়। অভিযোগ রয়েছে, মেয়ের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে অনেক নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত বাবা-মাকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। এমনকি হালের বলদ, গরু-ছাগল বা হাঁস-মুরগি বিক্রি করে ইফতারির টাকা জোগাড় করার নজিরও অহরহ।
সিলেটের পরগনা বাজারের গৌছ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, মেয়ের বিয়ে দিয়েছি দু’বছর। এবার নাতনি হওয়ায় ইফতারির পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হয়েছে। এই টাকা জোগাড় করতে হালের বলদ বিক্রি করতে হয়েছে আমাকে।
বন্দবাজারের আলিম মিয়া জানান, আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও ‘সমাজের ভয়ে’ ধারদেনা করে ইফতার পাঠাতে হয়। ইফতারি কম হলে বা মানসম্মত না হলে অনেক সময় আত্মীয়তার সম্পর্কেও ফাটল ধরে।
তরুণ প্রজন্ম ও সমাজকর্মীরা এই প্রথাকে ‘যৌতুকের নামান্তর’ ও ‘সামাজিক কুসংস্কার’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তাদের মতে, বিত্তশালীদের জন্য এটি আভিজাত্যের প্রদর্শনী হলেও দরিদ্রদের জন্য এটি স্পষ্ট শোষণ। বিশিষ্ট আলেমে দ্বীনদের মতে, ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি কুপ্রথা ও জুলুম। ইফতারি চেয়ে আনা বা কোনো পক্ষকে বাধ্য করা শরীয়তসম্মত নয়। সমাজকর্মীরা মনে করেন, ভালোবাসার প্রকাশ সামর্থ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, সামাজিক চাপে নয়।
বর্তমান সভ্য সমাজে অনেকেই এই প্রথা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ‘ফুড়ির বাড়ি ইফতারি’র কুফল নিয়ে জনমত তৈরি হচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি—মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে বাহারি ইফতারি আসার চেয়ে বরং মেয়ে নিজে রান্না করে বুড়ো মা-বাবার জন্য ইফতার পাঠানোই হতে পারে প্রকৃত মানবিক সংস্কৃতি।
যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই প্রথাটি কেবল উৎসব হিসেবেই থাকবে, নাকি অমানবিক বোঝা হয়ে সমাজকে আরও কুরে খাবে সেই প্রশ্নই এখন সচেতন সিলেটিদের মনে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে ১২ই রবিউল আউয়াল গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ সিলেট জেলার উদ্যোগে জশনে জুলুস বের করা হয়। বুধবার
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: জৈন্তাপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২৮ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করেছে জৈন্তাপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। গতকাল মঙ্গলবার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: যেসকল দালালদের ফাঁদে পড়ে সুনামগঞ্জের যুবকরা অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে এবং অকালে প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে আলোচনা সভা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পার্টনারশিপ ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক উপদেষ্টা, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল সাত্তার বলেছেন,
সিলেটের সংবাদ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের তুরুকভাগ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে পুলিশের এক এএসআইসহ একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে বসতভিটার জমি
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে পবিত্র জশনে জুলুস-২০২৬ আজ বুধবার হযরত শাহজালাল (রঃ) এর দরগাহ শরীফ প্রাঙ্গণ
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় নিজের পৈত্রিক ভুমিতে কোটি টাকা ব্যায়ে প্রতিষ্ঠা করছেন আল্লাহ পবিত্র ঘর মসজিদ ও মাদ্রাসা।