কথা রাখেননি জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম
* ৩ মাসেও পরিশোধ হয়নি বিদ্যুতের বকেয়া ২০ হাজার টাকা
* গত ২২ এপ্রিল আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেছেন মঙ্গল দাসের বিরুদ্ধে
* বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় মঙ্গল দাস গ্রেফতার
* মঙ্গল দাস ও বকেয়া বিলের ব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও, কোন রেসপন্স মেলিনি: বিদ্যুৎ আদালতের বেঞ্চ সহকারী
* মঙ্গল দাসের ব্যাপারে এরকম হওয়ার কথা নয়। ২০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এটা অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা: ডিসি মো. সারওয়ার আলম।
সুলতান সুমন:
মঙ্গল দাসের বিদ্যুতের বকেয়া বিল পরিশোধ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সেই আশ্বাস আর নিশ্চয়তার কারণে গত ১১ মার্চ জামিনের আদেশ দেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বিদ্যুৎ আদালত সিলেটের বিচারক আনোয়ারুল কবির। ফলে পরদিন মুক্তিপান মঙ্গল দাস।
এ বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জেলা প্রশাসক সিলেটের কার্যালয় থেকে সহকারী কমিশনার (মিডিয়া সেল) স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গত ১২ মার্চ সকল গণমাধ্যমে প্রেরণ করা হয়, আর প্রশংসায় ভাসেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। কিন্তু বিদ্যুতের সেই বকেয়া বিল বিশ হাজার টাকা এখনও পরিশোধ করেননি সিলেটের জেলা প্রশাসক। যার ফলে গত ২২ এপ্রিল পুনরায় মঙ্গল দাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন বিদ্যুৎ আদালতের বিচারক। আর সেই গ্রেফতারী পরোয়ানা হাতে পাওয়ার পর গত বুধবার (১৭ জুন) মঙ্গল দাসকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। আদালত মঙ্গল দাসকে কারাগারে প্রেরণ করেন বলে জানিয়েছেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী উজ্জ্বল মিয়া।
আদালত সূত্র জানায়, বিদ্যুতের ২০ হাজার টাকা বিল পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গল দাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ও বিদ্যুৎ আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবির । এরপর থেকে মঙ্গল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কারাগার পরিদর্শনের সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় মঙ্গলের।
বিষয়টি অবগত হওয়ার পর জেলা প্রশাসক তার জামিনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। বিদ্যুৎ আদালতের টাকা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পরিশোধের নিশ্চয়তা দিলে সিলেটের বিদ্যুৎ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা ও দায়রা জজ) মঙ্গল দাসকে জামিন দেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ওই মামলার ধার্য্য তারিখ ছিল গত ২২ এপ্রিল। ওই তারিখে মঙ্গল দাস আদালতে হাজির হননি। আর বিদ্যুতের বকেয়া বিল ২০ টাকাও পরিশোধ হয়নি। যার ফলে আদালত আইন অনুযায়ী মঙ্গল দাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। পুলিশ মঙ্গল দাসকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন। মঙ্গল দাসকে আদালতে প্রেরণের পর আদালত থেকে একাধিকবার সিলেট জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ বিল বা মঙ্গল দাসের ব্যাপারে কোন সঠিক সিদ্ধান্ত বা জবাব পাননি। ফলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ বিদ্যুৎ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. উজ্জ্বল মিয়া জানান, মঙ্গল দাসকে গত বুধবার (১৭ জুন) পুলিশ আদালতে দেওয়ার একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসনের সাথে, কিন্তু কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, মঙ্গল দাসের বিদ্যুতের বকেয়া ২০ হাজার টাকা এখন পরিশোধ করেননি সিলেট জেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, মঙ্গল দাসের বিষয়টি এভাবে হওয়ার কথা নয়। ওনার মামলাটি অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা। আর এই টাকার চেক অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে। তবুও আগামীকাল রোববার অফিসে গিয়ে বিষয়টি দেখবো।
এদিকে, বিদ্যুতের বকেয়া বিল মাত্র ২০ হাজার টাকা দিতে না পারায় কারাভোগ করছিলেন চা বাগানের বাসিন্দা মঙ্গল দাস। কারাগারে দেখা হয় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সাথে। তিনি বিষয়টি জানার পর সহায়তার এগিয়ে আসেন। প্রায় তিন মাস পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মঙ্গল দাস। তিনি বিমানবন্দর এলাকার কেওয়াছড়া চা বাগানের বিরাশ দাসের ছেলে।