admin
প্রকাশিত: 10:52 AM, October 24, 2026
সিলেটের অভিজাতদের ক্লাব খ্যাত সিলেট স্টেশন ক্লাব ১৪০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে বন্দরবাজারে। পাশেই জেলা পরিষদ। একটু ঘুরলেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জজ আদালত, পুলিশ সুপারের দপ্তর, সিটি করপোরেশন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, কোতোয়ালি, সার্কিট হাউস, ডিসি-এসপির বাংলো। কুদরত-ই-উল্লাহ জামে মসজিদ আর কালেক্টরেট জামে মসজিদও দূরে নয়। রাষ্ট্রের সিলমোহর আর নামাজের আজান—দুয়ের মাঝখানে একটা ক্লাব। আভিজাত্যের এই ঠিকানাই এখন প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সারা দেশের মতো সিলেটের নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের নেতারাও আত্মগোপনে যান। কিছুদিন পর থেকেই, নানা মাধ্যমে, পুনর্বাসনের খবর আসতে থাকে। অনুসন্ধানে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায়, সিলেটের অভিজাত চিত্তবিনোদনের এই ক্লাবই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই পুনর্বাসনের একটি শক্ত ঘাঁটি হয়ে উঠেছে সরকারদলীয় কয়েকজন নেতার আশির্বাদ ও ছত্রছায়ায়। ডেভিলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা তো দূরের কথা—তাঁদের নামে কথা বললেই সাধারণ সদস্যের উপর খড়্গ নামে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এক মিনিট পঁচিশ সেকেন্ডের একটা ভিডিও। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকের দৃশ্য। এখন আবারও ভাইরাল হয়েছে ভিডিওটি। স্থানটি ছিলো স্টেশন ক্লাবের বার। মদ্যপ অবস্থায় অসংলগ্ন আচরণ করছেন সিলেটের চিহ্নিত ডেভিল, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, জুলাই আগস্ট গণভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার উপর সশস্ত্র হামলাকারী, একাধিক মামলায় পলাতক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জাহিদ খান সায়েক। হত্যার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তির দিকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন তিনি। হত্যার জন্য জন্য টেবিলে একটি গ্লাস ভাঙেন। পাশাপাশি অকথ্য গালি দিচ্ছেন। ভিডিওতে থাকা অপর ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় মেলেনি। ভিডিও দেখে সায়েককে চিনেছেন সিলেটের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং ক্লাবের সদস্যরা। ঘটনাস্থলেই ছিলেন স্বৈরাচারের দোসর, একাধিক মামলার আসামি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির মূল হোতা, শত শত মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎকারী, সিলনেটের চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ডেভিল সাইফুদ্দিন খালেদ, সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, তালিকাভুক্ত ডেভিল মাহবুব আহমদ চৌধুরী, সাংবাদিক নামধারী, ফ্যাসিস্টের দোসর, একাধিক মামলায় জেলখাটা ডেভিল কামাল হাসানসহ কয়েকজন। ডেভিল খালেদকে ভিডিও ধারণকারীকে ধমকাতেও দেখা গেছে।
আক্রমণকারী জাহিদ খান সায়েক সিলেট মহানগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের (নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক। ওই ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অভিযোগ শহরে পুরোনো। তার দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই৷ আওয়ামী লীগ আমলজুড়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নগর দাপিয়ে বেড়ানোর কথাও জানান স্থানীয়রা। ৫ আগস্টের পর দলের যখন ত্রাহিত্রাহি অবস্থা। তখন সায়েক কিছুদিন পলাতক ছিলেন, পরে ফিরে এসে আবার সিলেটে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেন। প্রতিদিনই তার দেখা মেলে স্টেশন ক্লাবে। তার সঙ্গে আসর জমান আরও কয়েকজন চিহ্নিত ডেভিল।
অনুসন্ধানে সেই আসরের যে নামগুলো উঠে এসেছে তারা হলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, স্বৈরাচারের দোসর সাইফুদ্দিন খালেদ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সিলেট মহানগর শাখার সহসভাপতি ডেভিল বিজিত চৌধুরী, সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মাহবুব আহমদ চৌধুরী, পলাতক সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ডানহাত ও আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণকারী জুম্মা আব্বাস রাজু, এমসি কলেজের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রলীগসমর্থিত সাবেক ভিপি শাহরুখ আহমদ শাক্কু (বর্তমান ক্লাব প্রেসিডেন্ট), যীশু দেব, নাইওরপুলের হাজী আব্দুল মতিন, জাপা নেত্রী তানজিনা মুমিন ঝিনু আহমদ, ছাতকের সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ শামীম, জাবু চৌধুরী, কয়ছর আহমদ, আপেলসহ আরো অনেকেই।
কথিত আছে, এঁদের মাথায় আশীর্বাদের হাত দুটো। এক হাত সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের। অন্য হাত সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের। দুজনেই ক্লাবের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে গঠনতন্ত্র না মেনে গঠিত কথিত কমিটির দায়িত্বগ্রহণ ও নতুন সদস্য বরণের আসরেও তাঁদের উপস্থিতি ছিল প্রকাশ্য। শামীম সেখানে গেছেন প্রধান অতিথি হয়ে। এদের পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক মহিলা এমপি জেবুন্নাহারের ছেলে, পলাতক জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শমশের জামাল। তিনি ক্লাবে বসেন না। ফোনেই নাকি ভালো-মন্দ সাজান।
ক্লাবের কমিটির সাইনবোর্ডেও এই ডেভিল ছায়ার ছাপ। বর্তমান অবৈধ কমিটির প্রেসিডেন্ট শাহরুখ আহমদ শাক্কু (ডেভিল)। ভাইস প্রেসিডেন্ট এজেডএম আব্দুল্লাহ ওরফে আফরোজ (ক্লাবের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অন্যতম হোতা)। অর্থ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক এএস সিরাজুল হক চৌধুরী ওরফে তরুণ (ক্লাবের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অন্যতম হোতা ও নাটের গুরু)। ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক যীশু দেব (ডেভিল)। আপ্যায়ন বিভাগের পরিচালক জুম্মা আব্বাস রাজু (ডেভিল)। ব্যবস্থাপনা ও বিনোদনে দেলোয়ার জাহান চৌধুরী আপেল (আওয়ামী সুবিধাভোগী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর খাস লোক), সংস্কৃতিতে তানজিনা মুমিন আহমেদ ঝিনু (জাপা নেত্রী ও স্বৈরাচারের দোসর)। ক্লাবের নিজস্ব তালিকায় শাক্কুর মেয়াদ দেখানো আছে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: এত বড় ঘটনার পর জাহিদ খান সায়েক ক্লাবে বহাল থাকেন কীভাবে। তাঁর বিরুদ্ধে কি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি?
এর উত্তর থাকছে ২য় পর্বে।
সিলেটের অভিজাতদের ক্লাব খ্যাত সিলেট স্টেশন ক্লাব ১৪০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে বন্দরবাজারে। পাশেই জেলা পরিষদ। একটু ঘুরলেই জেলা প্রশাসকের
সিলেট জেলা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক লোকমান আহমদের বড় ভাই, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেছার আহমদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি: একই পরিবারের দুই শিশুকন্যা জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। বড় মেয়ে নুসরাত জাহান (৬) থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। ছোট মেয়ে বুশরাত
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের জকিগঞ্জে দুই সহোদর ভাইয়ের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আলী হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের
সিলেটে এলপিজি গ্যাসের অবৈধ সিন্ডিকেট সিলেটে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজি গ্যাস নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। তাদের কারসাজিতে
আব্দুল মাজিদ চৌধুরী: চলতি ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে এসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ‘আসিয়ান’-এর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত
যুব সমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদকের কুফল থেকে দূরে সরিয়ে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় যাত্রা
২৫% কমিশন, জালিয়াতি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাকালিন সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের ক্ষমতার দাপট