admin

প্রকাশিত: 4:20 PM, August 12, 2026

রাহাত চৌধুরী মুন্না’র রাজনীতির পাশাপাশি মানবিকতার এক দীর্ঘ পথচলা

রাহাত চৌধুরী মুন্না’র রাজনীতির পাশাপাশি মানবিকতার এক দীর্ঘ পথচলা

স্টাফ রিপোর্টার:

কেউ বিপদে পড়েছে খবরটি তার কানে পৌঁছেছে। এরপর সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, ততটুকু নিয়েই পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারও বিয়ে-শাদি, কারও অসুস্থতা, কারও পারিবারিক সংকট কিংবা হঠাৎ কোনো বিপদ প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে দ্বিধা করেননি। তাই রাজনীতিক পরিচয়ের বাইরে এলাকায় রাহাত চৌধুরী মুন্নার আরেকটি পরিচয় তৈরি হয়েছে—তিনি একজন সমাজসেবী, মানুষের বন্ধু।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কখনো একটি ফোনকল, কখনো একটু সাহস দেওয়া, কখনো আর্থিক সহযোগিতা—আবার কখনো শুধু বিপদের সময়ে পাশে গিয়ে দাঁড়ানোই একজন মানুষের জীবনে বড় আশীর্বাদ হয়ে ওঠে। রাহাত চৌধুরী মুন্নার সামাজিক কর্মকাণ্ডের বড় একটি জায়গাজুড়ে রয়েছে এমন ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগ।

তাকে যারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তাদের অনেকের কাছেই তিনি ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের প্রয়োজনের সময় তিনি সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। তার কাছে কেউ কোনো বিপদ নিয়ে গেলে খালি হাতে ফেরেন না—এমন কথাই তার দীর্ঘদিনের পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্খীদের মুখে শোনা যায়।

এই মানবিক মানসিকতা অবশ্য হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। ছাত্রজীবন থেকেই মানুষের কল্যাণে নিজেকে সম্পৃক্ত করার যে মানসিকতা, তার পেছনে রয়েছে তার পরিবার ও পিতা-মাতার শিক্ষা। পিতা-মাতার আদর্শে বেড়ে ওঠা মুন্না ছোটবেলা থেকেই মানুষের উপকার করার মূল্যবোধ ধারণ করেছেন। সেই মূল্যবোধই পরবর্তীতে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। রাহাত চৌধুরী মুন্নার রাজনৈতিক পথচলা শুরু কলেজজীবন থেকেই। ১৯৯৩ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৫ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর ১৯৯৮ সালে গণিত বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেন তিনি। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে সিলেট জেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৪ সালে দায়িত্ব পান সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে তার রাজনীতির পরিসর কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার মধ্য দিয়েই তিনি নিজের সামাজিক অবস্থান তৈরি করেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রাহাত চৌধুরী মুন্না। ২০০৫ সালে টিলাগড়-শাপলাবাগ এলাকার শাপলা সংঘের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের সময় এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন।

এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা এখনও রয়েছে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন এবং স্থানীয় পর্যায়ের নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে এলাকার মানুষের কাছাকাছি রেখেছেন।

তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি দল-মত কিংবা সামাজিক অবস্থানের পার্থক্যকে বড় করে দেখেন না। কারও প্রয়োজন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। আর এই কারণেই রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসে বিপদের সময়ে। আনন্দের দিনে অনেকেই পাশে থাকে, কিন্তু দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মানুষ পাওয়া কঠিন। রাহাত চৌধুরী মুন্নার সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকার চেষ্টা।

এলাকার কারও বিয়ে-শাদি হলে তিনি যেমন আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে যান, তেমনি কেউ বিপদে পড়লে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। কোনো পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে, কেউ অসুস্থ, কেউ হঠাৎ সমস্যায় পড়েছেন এমন পরিস্থিতিতে তার কাছে গেলে তিনি নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে কিছু করার চেষ্টা করেন। তার কাছে হয়তো সব সমস্যার সমাধান নেই। কিন্তু বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ‘আমি আছি’ এই কথাটি বলার মানসিকতা রয়েছে। অনেক সময় একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা।

সমাজে ভালো কাজ করলে সবাই যে সমানভাবে প্রশংসা করবে, এমন নয়। কারও ভালো কাজ যেমন মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে, তেমনি কখনো কখনো তা অন্য কারও ঈর্ষার কারণও হতে পারে। রাহাত চৌধুরী মুন্নার ক্ষেত্রেও এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করেন।

তবে এসব বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চান না তিনি। তার বিশ্বাস, মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে সমালোচনা থাকবেই। কারও কথায় থেমে না গিয়ে নিজের অবস্থান থেকে মানুষের পাশে থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।

তাকে যারা কাছ থেকে চেনেন, তাদের মতে, মানুষের জন্য কিছু করার পর সেটি প্রচার করা তার স্বভাব নয়। বরং তিনি মনে করেন, একজন মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোই মূল বিষয়; সেটি কতজন জানল, তা বড় কথা নয়।

রাহাত চৌধুরী মুন্নাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তার পরিচিতজনেরা বারবার একটি বিষয় সামনে আনেন—তার মানবিকতা। তিনি হৃদয়বান মানুষ হিসেবে পরিচিত। অন্যের কষ্ট তাকে নাড়া দেয়। মানুষের বিপদের কথা শুনলে সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। সমাজসেবা অনেক সময় অর্থ দিয়ে হয়, আবার অনেক সময় সময় দিয়ে, শ্রম দিয়ে কিংবা মানসিক শক্তি দিয়ে। মুন্নার সামাজিক কর্মকাণ্ডেও এই সবকিছুর সমন্বয় দেখা যায়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া—বিভিন্নভাবে তিনি নিজেকে মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রেখেছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পদ-পদবি এসেছে, দায়িত্ব এসেছে। কিন্তু তার পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে মানুষের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক। কারণ রাজনীতির পরিচয় সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকার স্মৃতি অনেকদিন থেকে যায়। রাহাত চৌধুরী মুন্নার রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ। সামনে তার রাজনৈতিক জীবনে আরও অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই পথ কতটা দীর্ঘ হবে কিংবা কোথায় গিয়ে থামবে—তা সময়ই বলবে।

তবে ইতোমধ্যে যে পরিচয়টি তিনি তৈরি করেছেন, সেটি হলো মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকা একজন ব্যক্তি হিসেবে। গরিব-দুঃখীর পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াএসব কর্মকাণ্ড তার সামাজিক পরিচয়কে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
রাজনীতি তাকে দিয়েছে সাংগঠনিক পরিচয়, আর সমাজসেবা দিয়েছে মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের জায়গা থেকেই হয়তো রাহাত চৌধুরী মুন্নার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি মানুষের পাশে থাকতে চান।

কারও কাছে তিনি রাজনৈতিক কর্মী, কারও কাছে সংগঠক, কারও কাছে সামাজিক ব্যক্তিত্ব। কিন্তু যারা বিপদের সময়ে তার সহযোগিতা পেয়েছেন, তাদের কাছে পরিচয়টা আরও সহজ বিপদে ডাকলে যে মানুষটি পাশে দাঁড়ান, তিনিই রাহাত চৌধুরী মুন্না। মানুষের জন্য কাজ করার এই পথ চলা অব্যাহত থাকুক এটাই প্রত্যাশা তার শুভাকাঙ্খী ও এলাকাবাসীর।


আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর মতবিনিময়

সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর মতবিনিময়

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন দেশের সকল সিটি

সিলেটে শাহজালাল জামেয়া নাজিরেরগাঁওয়ে ‘মা সমাবেশ’ সন্তানের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে মায়ের ভূমিকা অপরিহার্য: অধ্যাপিকা মাহফুজা হান্নান এমপি

সিলেটে শাহজালাল জামেয়া নাজিরেরগাঁওয়ে ‘মা সমাবেশ’ সন্তানের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে মায়ের ভূমিকা অপরিহার্য: অধ্যাপিকা মাহফুজা হান্নান এমপি

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা মাহফুজা হান্নান এমপি বলেছেন, সন্তানের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে মায়ের ভূমিকা অপরিহার্য। একজন

জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ -বেগমপুর রাস্তা সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন

জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ -বেগমপুর রাস্তা সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন

মো. আল আমীন, জগন্নাথপুর: সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর রাস্তা সংস্কারের দাবীতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হেলাল চৌধুরীকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

যুক্তরাজ্য প্রবাসী হেলাল চৌধুরীকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা হেলাল চৌধুরী যুক্তরাজ্য থেকে জন্মভূমি সিলেটে আগমন উপলক্ষে এক বিশাল সংবর্ধনা

২৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

২৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

সিলেটের সংবাদ ডেস্ক: সিলেট ও এর সন্নিহিত এলাকাকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও টেকসই পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে

শান্তিগঞ্জে আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও অ্যামেচার রেডিওর যৌথ দুর্যোগ মহড়া

শান্তিগঞ্জে আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও অ্যামেচার রেডিওর যৌথ দুর্যোগ মহড়া

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল

অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় কলোনির মালিক ও কেয়ারটেকারদের মাঝে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বিতরণ

অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় কলোনির মালিক ও কেয়ারটেকারদের মাঝে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বিতরণ

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডে অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলা ও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে কলোনির মালিক ও কেয়ারটেকারদের মাঝে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বিতরণ

হাজী সোরমান আলীর স্মরণে জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সিলেট-সুনামগঞ্জ শাখার শোকসভা ও দোয়া মাহফিল

হাজী সোরমান আলীর স্মরণে জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সিলেট-সুনামগঞ্জ শাখার শোকসভা ও দোয়া মাহফিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি: নং-বি-১৮৮৬)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, সিলেট