admin
প্রকাশিত: 6:41 AM, July 4, 2026
সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়া ও ভারতীয় ‘শিলং তীর’ নামক মারাত্মক জুয়ার আসর দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
বিশেষ করে পাঠানটুলা শ্রাবণী এলাকা, নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা, মদিনা মার্কেট পাম্পের গলি এবং আক্তার টাওয়ারের পাশের গলিতে প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী যুবক ও শ্রমজীবী মানুষের উপচে পড়া সমাগম দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্মার্টফোন ব্যবহারের মাধ্যমে এই চক্রটি পুরো নগরীতে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে।
এলাকাবাসীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এই জুয়া সিন্ডিকেটের মূলহোতা মদিনা মার্কেট ফেরদৌসী রোড আবাসিক এলাকার আব্দুর রহীমের ছেলে রেজাউল। এই রেজাউল আগে যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল এবং এর আগেও শিলং তীরের বোর্ড পরিচালনার অপরাধে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে এসে সে পুনরায় বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।
এই চক্রের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে জুয়ার আসর ও অর্থ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করছে সিলেট মহানগর ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জুনেদ ওরফে ‘টাকলা জুনেদ’, হিদন মিয়া ওরফে ‘শিলং হিদন’, জুবেল আহমদ ওরফে ‘বাট্টি জুবেল’ এবং রনি নামের কয়েকজন ব্যক্তি। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে এই চক্রটি নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অনলাইন ও দূরবর্তী এই জুয়ার ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হারাচ্ছেন স্থানীয় নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ। ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক অশান্তি চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ থাকলেও এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এই চক্রের মূলহোতাসহ সকল এজেন্টদের গ্রেপ্তার এবং নগরীর সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন রোধে যুগোপযোগী ও কঠোর ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ কার্যকর করেছে সরকার। প্রায় ১৫৯ বছরের পুরোনো ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ রহিত করে গত বুধবার (১ জুলাই) রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে এই নতুন আইনের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল অপরাধের পরিধি কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ভিপিএন, প্রক্সি সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভুয়া এমএফএস (বিকাশ/নগদ ইত্যাদি) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে জুয়া খেললে বা জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর যদি এই অপরাধ সংঘবদ্ধভাবে কিংবা অর্থপাচারের (মানি লন্ডারিং) উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হবে।
এছাড়া জুয়ার প্রচারণায় অংশ নিলে (বিজ্ঞাপন, ইনফ্লুয়েন্সার বা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে) ৩ বছরের জেল এবং ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মোবাইল, কম্পিউটার এমনকি জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ভবন বা অফিসও আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করার স্পষ্ট আইনগত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এই নতুন ও কঠোর আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে মদিনা মার্কেট ও পাঠানটুলা এলাকার জুয়া সিন্ডিকেটের হোতা রেজাউল, জুনেদ, হিদন ও জুবেলসহ পুরো চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে নগরীকে জুয়ামুক্ত করা হবে।
সিলেটের বিশ্বনাথে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য প্রস্তাবিত ‘দ্যা ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হাসপাতাল’র স্থাপনা কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন ও চিকিৎসাসেবা
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হলেও, সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দেখা দিয়েছে হযবরল অবস্থা। পৌরশহরের বিভিন্ন
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথম সিলেট জেলা ও নগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সভা হয়েছে। বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত
লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং লায়ন্স জেলা ৩১৫বি-১ এর উদ্যোগে সিলেটের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে
স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে
আব্দুর রহমান: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, হাওর, পাহাড়, পাথর, গ্যাস, কৃষি এবং বিপুল প্রবাসী আয়ের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সিলেটের অবস্থান অত্যন্ত
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এমপি-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন ‘মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ’-এর
স্টাফ রিপোর্টার: জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে শুধু পরিবেশ অধিদপ্তর বা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং কৃষি, মৎস্য, অবকাঠামো, শিল্প, নগরায়ণ