admin
প্রকাশিত: 8:22 AM, December 24, 2025
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: সম্প্রতি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নে একটি সেলুন থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত কিভাবে ওই স্থানে এসেছে তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয় ও পরিবারের দাবী, পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফাঁসানো হয়েছে ওই সেলুন ব্যবসায়ী বিমল শীলকে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে। ওই সময় বিমল শীলের সেলুন প্রতিপ্রভা জেন্টস পার্লার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে মাধবপুর থানা পুলিশ। এসময় মাধবপুর থানার এসআই পাভেল আহমদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিমল শীলকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেন। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ৪টি বিস্ফোরিত গ্যাস সেল, ২টি অবিস্ফোরিত গ্যাস সেল, (বাংলাদেশ পুলিশের নাম সম্বলিত) শটগানের ২ রাউন্ড অবিস্ফোরিত কার্তুজ, ১৩টি খালি কার্তুজ, একটি ওয়াকিটকি ও একটি মাউথ পিসসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।
এ ঘটনায় প্রথমে তথ্যদাতা হিসেবে পুলিশের নজরে আসেন অনিন্দ্য রায়। পরবর্তীতে বুধবার মাধবপুর থানা পুলিশ অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে, (মামলা নং-১৬/৫৫১২, তারিখ : ১৭/১২/২০২৫ইং) যেখানে বিমল শীলকে ১ নম্বর এবং অনিন্দ্য রায়কে ২ নম্বর আসামি করা হয়। এ ঘটনায় মামলার ১নং আসামী বিমল শীল জেল হাজতে থাকলেও ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ২নং আসামী অনিন্দ্য রায় এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জগদীশপুর এলাকার দিলীপ রায়ের ছেলে অনিন্দ্য রায়ের সাথে ব্যবসা সংক্রান্ত প্রায় ৭০লক্ষাধিক টাকার লেনদেন রয়েছে বিমল শীলের। ব্যবসায় শেয়ার দেওয়ার কথা বলে পৃথক পৃথক সময়ে একাধিক বার বিমল শীলের কাছ থেকে ওই টাকা নেন অনিন্দ্য। যার মধ্যে অধিকাংশ পরিমান টাকার প্রমান হিসেবে লিখিত ষ্ট্যাম্প রয়েছে। ব্যবসার কোনও লভ্যাংশ কিংবা শেয়ার বুঝে না পেয়ে এক পর্যায়ে বিমল শীল যখন অনিন্দ রায়ের কাছ থেকে টাকা ফেরত চান ঠিক তখনই বাধে বিপত্তি। এর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা বিরাজ করে যা স্থানীয়রাও অবগত রয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে। পরে একাধিকবার বিমল শীল টাকা চাওয়ায় তাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন অনিন্দ্য রায়। এর আগেও একবার এই ঘটনার জের ধরে বিমল শীলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মাদক রেখে তাকে ফাঁসানো চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। যা তৎকালীন সময়ে মাধবপুর থানা পুলিশের সহযোগীতায় নিষ্পত্তি হয়।
সর্বশেষ ঘটনায় নাম প্রকাশ না করা শর্তে এলাকাবাসীর বেশ কয়েকজন বলছেন, একজন ব্যক্তির পক্ষে একা এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব। যেহেতু তিনি একজন সাধারণ সেলুন ব্যবসায়ী। তাছাড়া গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততারও কোন প্রমান মিলেনি। ফলে এ ঘটনায় অনিন্দ্য রায়সহ পেছনে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেট কিংবা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কি না তাও সুষ্ঠু তদন্তের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এসব অস্ত্র কেবল ব্যক্তিগত বিরোধের ফল নয়; বরং দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অংশও হতে পারে। তাই প্রশাসনকে সর্ব্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করারও তাগিদ তাদের। এর পাশাপাশি ব্যাক্তিগত বিরোধের বহিঃপ্রকাশ যেনো এভাবে কোনও নিরপরাধ ব্যাক্তির উপর প্রয়োগ না হয় সেই আহ্বানও জানান তারা।
গ্রেফতারকৃত বিমল শীলের স্ত্রী শিপ্রা রানী শীল বলেন, ‘আমার স্বামীকে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফাঁসানো হয়েছে। এর আগেও নানাভাবে ফাঁসানো চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে এমন অন্যায় করা হয়েছে।’ – এমন ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সর্বোচ্চ সহযোগীতা কামনা করেন তিনি। বিমল শীলের ছেলে হৃদয় শীলেরও দাবী তার বাবাকে সুপরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এঘটনার পর পুরো পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত তিনি। তাই গত ১৮ ডিসেম্বর মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন হৃদয় (জিডি নং-১০৬১)।
এ বিষয়ে জানতে অনিন্দ্য রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে ঘটনার দিন সেলুন ব্যবসায়ী বিমল শীল অভিযোগ করে বলেন, আগেও আমাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এবারও একই ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে আমাকে বিপদে ফেলেছে। আমি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা চাই। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় জগদীশপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মর্তুজ আলী বলেন, বিমল শীল দীর্ঘদিন যাবৎ এই বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। আমার ধারণামতে তিনি অস্ত্র সংরক্ষণের মতো কাজ করতে পারেন না। স্থানীয় অনিন্দ্য রায়ের সাথে তার টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে, যা আমাদের বেশিরভাব ব্যবসায়ীর জানা। তাঁকে পূর্ব শত্রুতার জেরে ফাঁসানো হতে পারে বলেও ধারণা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মোর্শেদের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কল কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোছা: ইয়াছমিন খাতুন বলেন, প্রাথমিকভাবে আমি এটা বলতে পারি যে,, যার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে সে-ই আমাদের কাছে আসামী, তবে এই ঘটনা পূর্ব শত্রুতার জেওে হয়েছে কিনা তা গভীর তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসবে। সেক্ষেত্রে আমরা সর্ব্বোচ্চ সতকর্তা অবলম্বন করবো। এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় যেন কোনোভাবেই নিরীহ কাউকে ফাঁসানো না হয় এমন দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে ১২ই রবিউল আউয়াল গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ সিলেট জেলার উদ্যোগে জশনে জুলুস বের করা হয়। বুধবার
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: জৈন্তাপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২৮ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করেছে জৈন্তাপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন। গতকাল মঙ্গলবার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: যেসকল দালালদের ফাঁদে পড়ে সুনামগঞ্জের যুবকরা অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে এবং অকালে প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে আলোচনা সভা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পার্টনারশিপ ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক উপদেষ্টা, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল সাত্তার বলেছেন,
সিলেটের সংবাদ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের তুরুকভাগ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে পুলিশের এক এএসআইসহ একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে বসতভিটার জমি
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে পবিত্র জশনে জুলুস-২০২৬ আজ বুধবার হযরত শাহজালাল (রঃ) এর দরগাহ শরীফ প্রাঙ্গণ
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় নিজের পৈত্রিক ভুমিতে কোটি টাকা ব্যায়ে প্রতিষ্ঠা করছেন আল্লাহ পবিত্র ঘর মসজিদ ও মাদ্রাসা।