admin
প্রকাশিত: 7:29 AM, February 11, 2026
সিলেটের সংবাদ ডেস্ক:
রাত পোহালেই ভোট। আর এই ভোটে জয়ী হতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী। তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে খোদ জামায়াতের আমির যে আসনে নির্বাচন করছেন সেই ঢাকা-১৫তে ভোটারদের টাকা দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ ছাড়াও জামায়াতের প্রার্থীরা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
মূলত প্রশাসনকে ব্যবহার করেও নির্বাচনে জয়ী হতে চাচ্ছে জামায়াত। নির্বাচন আয়োজনে মূল দায়িত্বে যারা রয়েছেন সেই মাঠ প্রশাসনই জামায়াতের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনের ডিসিদের দলীয় পরিচয়সহ তাদের অতীত ও বর্তমান মতাদর্শের বিশ্লেষণ গোয়েন্দা সংস্থা ও জনপ্রশাসন সূত্রে জানাগেছে। এতে ৬৪ জেলার ডিসিদের নাম, বিসিএস ব্যাচ এবং তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিশ্লেষণে দেখা যায় এর মধ্যে ৫২টি জেলাতেই জামায়াত ও এনসিপি মতাদর্শের ডিসি নিয়োগ পেয়েছে। বিপরীতে বিএনপিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মাত্র ১২ জনকে। এদের নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ২৫জন ডিসি প্রত্যাহারের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিসিরা নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে প্রশাসনের এমন একপাক্ষিক রাজনৈতিক বিন্যাস এবং গোপন নথিতে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সংরক্ষণ সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গেছে, ৬৪ জন জেলা প্রশাসকের মধ্যে, আগে ছাত্রলীগ বর্তমান জামায়াতের ৩২ জন, আগে ছাত্রলীগ ও শিবিরের বর্তমানে এনসিপির নামে ২০ জন ডিসি মাঠে রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এনসিপি থেকে যে ২০ জন ডিসি নিয়োগ দিয়েছে তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অন্যান্যগুলোর থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিবসহ জামায়াতপন্থী কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন বলে বলা হয়। কর্মকর্তারা বর্তমান পরিচয়ের পাশাপাশি অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে ‘পূর্বে জামায়াত’ বা ‘পূর্বে বিএনপি’ নিচে বিভাগওয়ারি ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের তালিকা ও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরা হলো।
ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার অধিকাংশই জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের নাম উঠে এসেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম ২৭ ব্যাচ জামায়াত পন্থী। তাকে এক উপদেষ্টা ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিবের সুপারিশে নিয়োগ দিয়েছেন। গাজীপুরের ডিসি মোহাম্মদ আলম হোসেন (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। নারায়ণগঞ্জ ডিসি মো. রায়হান কবির ২৯ ব্যাচ জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)। মুন্সীগঞ্জ ডিসি সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ২৭ ব্যাচ জামায়াত। নরসিংদী ডিসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। মানিকগঞ্জ ডিসি নাজমুন আরা সুলতানা (২৮ ব্যাচ) বিএনপি। টাঙ্গাইল ডিসি শরীফা হক (২৫ ব্যাচ) বিএনপি পন্থী, কিশোরগঞ্জ ডিসি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা (২৭ ব্যাচ) জামায়াত (পূর্বে বিএনপি), ফরিদপুর ডিসি কামরুল হাসান মোল্যা (২৫ ব্যাচ) বর্তমানে এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। রাজবাড়ী ডিসি সুলতানা আক্তার (২৭ ব্যাচ) বর্তমানে এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। গোপালগঞ্জ ডিসি আরিফ-উজ-জামান (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। মাদারীপুর ডিসি জাহাঙ্গীর আলম (২৮ ব্যাচ) জামায়াত। শরীয়তপুর ডিসি তাহসিনা বেগম (২৫ ব্যাচ) জামায়াত।
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মিশ্র অবস্থান দেখা গেছে, জামায়াত ও এনসিপির প্রভাব স্পষ্ট। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা (২৫ ব্যাচ) বিএনপি পন্থী। কক্সবাজার ডিসি মো. আ: মান্নান (২৭ ব্যাচ) বর্তমানে জামায়াত (আগে বিএনপি) পরিচিত। কুমিল্লা জেলার ডিসি রেজা হাসান (২৯ ব্যাচ) বর্তমানে এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। তার নিয়োগের সুপারিশ করেছে আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি শারমিন আক্তার জাহান (২৫ ব্যাচ) বিএনপি পন্থী। চাঁদপুর নাজমুল ইসলাম সরকার (২৯ ব্যাচ) বিএনপি পন্থী, নোয়াখালী ডিসি মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (২৭ ব্যাচ) বিএনপি পন্থী। লক্ষ্মীপুর ডিসি এস এম মেহেদী হাসান (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। ফেনী ডিসি মনিরা হক (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। খাগড়াছড়ি ডিসি আনোয়ার সাদাত (২৯ ব্যাচ) জামায়াত। রাঙ্গামাটি নাজমা আশরাফী (২৯ ব্যাচ) বর্তমানে এনসিপি (আগে ছাত্রলীগ ও সুশীল)। বান্দরবান ডিসি শামীম আরা রিনি (২৭ ব্যাচ) বিএনপি পন্থী বলা হয়। আসলে তিনি আওয়ামী লীগের।
রাজশাহী বিভাগে এনসিপি ও জামায়াতের শক্ত অবস্থান নথিতে উঠে এসেছে। রাজশাহী ডিসি আফিয়া আখতার (২৫ ব্যাচ) বিএনপি। বগুড়ায় তৌফিকুর রহমান (২৭ ব্যাচ) বিএনপি। পাবনায় ড. শাহেদ মোস্তফা (২৫ ব্যাচ) জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)। সিরাজগঞ্জে আমিনুল ইসলাম (২৭ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। নওগাঁতে সাইফুল ইসলাম (২৯ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। নাটোরে আসমা শাহীন (২৭ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। চাঁপাইনবাবগঞ্জে শাহাদাত হোসেন মাসুদ (২৮ ব্যাচ) জামায়াত। জয়পুরহাটে আল-মামুন মিয়া (২৮ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
খুলনা বিভাগে জামায়াতপন্থীদের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। খুলনায় আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার (২৯ ব্যাচ) জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)। যশোরে মোহাম্মদ আশেক হাসান (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। সাতক্ষীরায় আফরোজা আখতার (২৮ ব্যাচ) জামায়াত। বাগেরহাটে গোলাম মো: বাতেন (২৮ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে বিএনপি)। কুষ্টিয়ায় মো. ইকবাল হোসেন (২৯ ব্যাচ) জামায়াত। ঝিনাইদহে আব্দুল্লাহ আল মাসউদ (২৭ ব্যাচ) বিএনপি। চুয়াডাঙ্গায় মোহাম্মদ কামাল হোসেন (২৭ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে সুশীল)। মেহেরপুরে ড. সৈয়দ এনামুল কবির (২৭ ব্যাচ) জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)। নড়াইলে ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। মাগুরায় আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (২৮ ব্যাচ) জামায়াত।
রংপুর বিভাগে বিএনপি কোণঠাসা, প্রায় পুরোটাই এনসিপি ও জামায়াতের দখলে। রংপুরে মোহাম্মদ এনামুল আহসান (২৭ ব্যাচ) জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)। দিনাজপুরে রফিকুল ইসলাম (২৭ ব্যাচ) জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)। কুড়িগ্রামে অন্নপূর্ণা দেবনাথ (২৮ ব্যাচ) এনসিপি (ছাত্রলীগের নেত্রী)। তার স্বামী আওয়ামীলীগের স্বাচিবের নেতা। গাইবান্ধায় মাসুদুর রহমান মোল্লা (২৭ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। নীলফামারীর মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান (২৫ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। লালমনিরহাটে এইচ এম রকিব হায়দার (২৫ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। ঠাকুরগাঁওয়ে ইশরাত ফারজানা (২৫ ব্যাচ) বিএনপি। পঞ্চগড়ে কাজী মো. সায়েমুজ্জামান (২৮ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। বরিশাল বিভাগের বরিশালে খায়রুল আলম সুমন (২৯ ব্যাচ) বিএনপি। পটুয়াখালীতে ড. মো: শহীদ হোসেন চৌধুরী (২৫ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে বিএনপি)। ভোলায় ডা. শামীম রহমান (২৯ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে বিএনপি)। পিরোজপুরে আবু সাঈদ (২৮ ব্যাচ) জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)। ঝালকাঠিতে মো. মমিন উদ্দিন (২৭ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)। বরগুনায় তাছলিমা আক্তার (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। ময়মনসিংহ বিভাগে ময়মনসিংহে মো: সাইফুর রহমান (২৮ ব্যাচ) জামায়াত। জামালপুরে মোহাম্মদ ইউসুপ আলী (২৭ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে সুশীল)। নেত্রকোনায় মো: সাইফুর রহমান (২৮ ব্যাচ) জামায়াত। শেরপুরে তরফদার মাহমুদুর রহমান (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। সিলেট বিভাগের সিলেটে মো: সারওয়ার আলম (২৭ ব্যাচ) জামায়াত। সুনামগঞ্জে ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া (২৫ ব্যাচ) এনসিপি (পূর্বে সুশীল)। হবিগঞ্জে আবু হাসনাত মো: আরেফীন (২৫ ব্যাচ) জামায়াত। মৌলভীবাজারে তৌহিদুজ্জামান পাভেল (২৮ ব্যাচ) জামায়াত।
প্রশাসন বিশেষজ্ঞ সাবেক সচিব ড. আব্দুস সবুর বলেন, জামায়াত যেহেতু জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারবে না সে কারণে তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে জয়ী হতে মরিয়া। এ কারণে সরকারকে ব্যবহার করে আগেই ৬৪ জেলা প্রশাসকের মধ্যে ৫২ জনই তাদের মতাদর্শে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারপরও প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশাবাদী।
(সিউক)-এর চেয়ারম্যান কয়েস লোদীর অভিনন্দন দীর্ঘ দেড়যুগ পর অবশেষে গঠিত হলো ‘সিলেট নজরুল একাডেমী’র নতুন কার্যকরী কমিটি। বুধবার রাতে সরকারি
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার একটি গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে স্থানীয় বিতর্কিত
* অপরাধের স্বর্গরাজ্য ও ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতন * আওয়ামী লীগ থেকে এনসিপি: রাতারাতি রূপবদল * আফজালের উসকানিমূলক বক্তব্য ও রাজনৈতিক
সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা আম্বরখানাস্থ চায়না মার্কেট ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। টানা ছয়টি
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির জীবন সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন,
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। এছাড়া, অন্যান্য
স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যুগোপযোগী, আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, গ্রিন ও ক্লিন সিলেট গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি