admin

প্রকাশিত: 4:59 AM, December 1, 2025

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ‘ভারতীয় যোগসাজশ’, ষড়যন্ত্র শুরু ২০০৮ থেকে

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ‘ভারতীয় যোগসাজশ’, ষড়যন্ত্র শুরু ২০০৮ থেকে

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা’ এবং এর সঙ্গে ‘ভারতীয় যোগসাজশ’ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান।

রোববার (৩০ নভেম্বর) ১৬ বছর আগের ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা এবং বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার ভাষায়, ‘কথা হচ্ছে এই বাহিনীটাকে দুর্বল করার ও বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র ছিল। তখন ভারত চেয়েছিল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে আর তৎকালীন সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল।’

সংবাদ সম্মেলনে পিলখানা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ও সামরিক নেতার নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, সাহারা খাতুন, জেনারেল তারেক সিদ্দিকী, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ, তৎকালীন ডিজিএফআই এর প্রধান মেজর জেনারেল আকবর।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘বিডিআর কার্নেজটা হওয়ার পর সরকার তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল।’ প্রতিবেশী দেশ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতকে বুঝিয়েছি, যেখানে আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দলবলসহ আশ্রয় নিয়েছেন।’

এ সময় তিনি আরও জানান, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ নাকি বলেছিলেন, ‘তিনি এখানে অ্যাকশন করলে ভারত এখানে হস্তক্ষেপ করত।’

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। ওই সময়কার পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে কমিশনপ্রধান বলেন, ‘ওই সময় ৯২১ জনের মতো ভারতীয় দেশে এসেছিল। তার মধ্যে ৬৭ জন ভারতীয়র হিসাব মিলছে না।’

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনঃতদন্তের দাবি ওঠায় গত ২৪ ডিসেম্বর সরকার জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। রোববার জমা দেওয়া প্রতিবেদন তৈরিতে ২৪৭ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। সাক্ষ্যদাতাদের মধ্যে নিহতদের পরিবার, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, সাবেক ও বর্তমান বিডিআর–বিজিবি সদস্য, কারাবন্দী ব্যক্তি ও তিনজন সাংবাদিকও ছিলেন। সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বর্তমান সেনাপ্রধানেরও।

ফজলুর রহমান জানান, এই ঘটনার পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে হয়েছে। তার ভাষায়, ‘এটা একদিনে হয়নি। যেমন তাপস এসে বিভিন্ন সময় মিটিং করেছেন। সর্বশেষ দিনে এই কিলিংটা হয়েছে।’ ষড়যন্ত্র কখন শুরু হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০০৮ থেকে শুরু হয়েছে এটা বলতে পারেন। নির্বাচনের আগে থেকে শুরু হয়েছে।’

পিলখানায় বিদ্রোহের কারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিডিআরের ভেতরে ‘ডাল–ভাত কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ, অতিরিক্ত ডিউটি, অফিসারদের প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন’ ছিল।

সাবেক মেয়র তাপসকে ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলায় পাঁচ সেনা কর্মকর্তাকে গুম করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের গুম করা হয়নি। তাদের ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।’

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় জানানো হয়, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ‘পরিকল্পিত’ ছিল এবং এর পেছনে ‘ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজ সংকেত’ ছিল—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে সরাসরি ভূমিকা রাখে এবং সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস ‘প্রধান সমন্বয়কের’ ভূমিকা পালন করেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়। পাশাপাশি ‘বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততার’ও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশনের দুই সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান ও মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।


সর্বশেষ সংবাদ

অধ্যাপক ডা. নিয়াজ আহমদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য নিযুক্ত

অধ্যাপক ডা. নিয়াজ আহমদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য নিযুক্ত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সিলেটের কৃতি সন্তান অধ্যাপক ডাক্তার নিয়াজ আহমদ চৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের

শ্রী শ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় সিদ্ধ বকুলতলা ধাম সংরক্ষণ কমিটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন

শ্রী শ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় সিদ্ধ বকুলতলা ধাম সংরক্ষণ কমিটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন

আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে শ্রী শ্রী ঠাকুর বৈষ্ণব রায় সিদ্ধ বকুলতলা ধাম সংরক্ষণ কমিটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। নবগঠিত

লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট হলি সিটির দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন

লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট হলি সিটির দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন

সামাজিক সংগঠন লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট হলি সিটির (জেলা ৩১৫ বি১, বাংলাদেশ)-২০২৬ সালের দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে শিক্ষক সভা অনুষ্ঠিত

স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে শিক্ষক সভা অনুষ্ঠিত

স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক সভা

ওসমানীনগরে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে চক্র: ভুয়া চালানে ইউএনওকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা

ওসমানীনগরে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে চক্র: ভুয়া চালানে ইউএনওকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা

মোঃ ফজলু মিয়া, ওসমানীনগর: সরকারের ঘোষিত পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালুর

শিববাড়িতে মাদক বিস্তারের অভিযোগ বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, স্থানীয়দের উদ্বেগ

শিববাড়িতে মাদক বিস্তারের অভিযোগ বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, স্থানীয়দের উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকা ধীরে ধীরে মাদকের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সীমান্তে নতুন রুট ‘হরিপুর’ : এয়াহিয়া-নুরুল-আমিন সিন্ডিকেটের হাত ধরে কোথায় যাচ্ছে ভারতীয় পণ্য

সীমান্তে নতুন রুট ‘হরিপুর’ : এয়াহিয়া-নুরুল-আমিন সিন্ডিকেটের হাত ধরে কোথায় যাচ্ছে ভারতীয় পণ্য

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর রুটটি এখন ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি: জিন্দাবাজার-হকার্স মার্কেটে কামরানের চোরাই নেটওয়ার্ক

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি: জিন্দাবাজার-হকার্স মার্কেটে কামরানের চোরাই নেটওয়ার্ক

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সিলেটে রাতারাতি খোলস বদলে সচল হয়ে উঠেছে একটি বড় ধরনের অবৈধ ‘বুঙ্গা’ (সীমান্ত