admin
প্রকাশিত: ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার:
পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি সিলেটের গোয়ালগাদ্দা শিম। এ শিম সিলেট অঞ্চলে উৎপাদন হলেও এর চাহিদা শুধু দেশজুড়ে নয়, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হয় বিশেষ জাতের এই শিম। সাধারণ শিমের চাইতে গোয়ালগাদ্দা শিম আকারে অনেকটা বড়। ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা ও ২ থেকে ৩ ইঞ্চি প্রস্থের এই শিম সিলেটে ব্যাপক জনপ্রিয় ও সুস্বাদু। সে কারণেই অন্য শিমের চেয়ে এর চাহিদাও বেশি। গোয়ালগাদ্দা’ শিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যুক্তরাজ্য-কানাডাসহ ইউরোপের ১৩টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কয়েক যুগ ধরে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ জাতের ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম চাষ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, সিলেট জেলার সব উপজেলায় কম-বেশি শিম উৎপাদন হচ্ছে। এ বছর সিলেটের ৪৯৮০ হেক্টর জমিতে গোয়ালগাদ্বা শিম আবাদ হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে গোলাপগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন লক্ষ্মণাবন্দ, লক্ষ্মীপাশা ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নে। এসব এলাকার মাটি ও পরিবেশ গোয়ালগাদ্দা শিম চাষে উপযোগী। চলতি মৌসুমে শুধু গোলাপগঞ্জে ৭৩০ হেক্টর জমিতে গোয়ালগাদ্দা শিম চাষ হয়েছে। আগামী বছর আরো বেশি জমিতে শিমের চাষ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে শতাধিক টন শিম উৎপাদন হবে বলেও আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ, লক্ষণাবন্দ, লক্ষ্মীপাশা ও ফুলবাড়ি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামে দিগন্ত বিস্তৃত শিম গাছের সবুজ শামিয়ানা। দোল খাচ্ছে থোকায় থোকায় বিশেষ জাতের শিম ‘গোয়ালদাদ্দা’। মাঠে, বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় এমনকি ছাদের উপর সবখানেই শিম আর শিম। এ দৃশ্য দেখে শুধু কৃষক নয়, দেখে পথিকেরও মনজুড়ায়।
পোক্ত হয়ে ওঠা এসব শিম বিক্রি করতে কৃষকরা ক্লান্তিহীন সময় পার করছেন। বাজারজাত করতে মাচা থেকে তারা সংগ্রহ করছেন শিম। শুধু গ্রামেরই দৃশ্য নয়, সাপ্তাহিক বাজারের দিন এলে বাজারের রাস্তা-ঘাটসহ আশপাশ ভরে যায় শিমে। এ শিম শুধু স্থানীয় বাজারেই বিক্র হচ্ছে না, রফতানি হচ্ছে বিদেশেও। ফলে সিলেটের গোয়ালদাদ্দা বয়ে আনছে বিদেশি টাকা। এছাড়াও স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে সিলেটের শিম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিণ ও লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের আটটি গ্রামে গোয়ালগাদ্দা শিম চাষ হয় বেশি। একেকজন চাষি চার থেকে পাঁচবিঘা জমিতে শিমের চাষ করেন। প্রতি সপ্তাহে ৪০০ থেকে ৬০০ কেজি শিম বিক্রি করেন।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এ শিম দেশব্যাপি প্রসিদ্ধ। কীটনাশক ব্যবহার না করে শিম চাষের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ শিমের যথেষ্ট কদর রয়েছে। বেলে ও দোঁআশ মাটি শিম চাষের জন্য উপযোগী। এ অঞ্চলের মাটিতে বেলে ও দোঁআশের সংমিশ্রণ থাকায় শিমের ফলন ভালো হয় এবং স্বাদও বেশি। বিশেষ করে এ অঞ্চলের ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিমের সুনাম রয়েছে দেশে-বিদেশে। এখানকার শিমের স্বাদ অন্যান্য জেলার শিমের চেয়ে আলাদা। এ কারণে এ এলাকার শিমের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট।
এ অঞ্চলের শিম এলাকার চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হয় বিদেশেও। শীত মৌসুম আসার আগে মৌসুমী কৃষকরা শিম চাষ করে থাকেন। শীত মৌসুমে এসব শিম স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। এখান থেকে পাইকাররা প্রতিহাটে ৫ থেকে ৭ টন শিম ক্রয় করে ট্রাক, পিকআপ ভ্যানযোগে দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে যায়। এছাড়া অনেকে শিম বিদেশে রফতানি করেন। এলাকার কৃষকগণ স্থানীয় পর্যায়ে শিম চাষে বরাবরের মতো এবারও ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। উন্নত চাষ পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে শিম চাষে এ অঞ্চলের সফলতা সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানা গেছে।
সিলেটের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শিম বিক্রি করছেন। অন্যবারের তুলনায় এবার শিমের দাম কিছুটা বেশি বলে জানান খুচরো বিক্রেতারা। প্রতিকেজি শিম বর্তমান বাজারে পাইকরি বিক্রি ৩০-৩৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। তবে বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রে এককেজি শিমের দাম পড়ে ৫০ টাকার উপরে।
গোলাগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ এলাকার চাষি রহমত আলী জানান, শিম চাষে বিখ্যাত তাদের এ অঞ্চল। ধান চাষ থেকে শিম চাষে লাভ বেশি। তাই এই মৌসুমে ধানী জমিতেও তিনি শিম চাষ করেছেন। শিম চাষী লতিফ মিয়া জানান, এবার তিনি ৩ বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন এবং ফলনও ভাল হয়েছে।
বিদেশের রপ্তানির বিষয়ে পাইকার ফজল বলেন, প্রতি হাটবারে ১ হাজার থেকে ১২শ’ কেজি শিম এজেন্সির মাধ্যমে ঢাকায় পাঠান। সেখান থেকে শিমগুলো দেশের বাইরে রফতানি হয়। দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি অফিসার গৌতম পাল বলেন, দেশ বিদেশে সমান জনপ্রিয় সিলেটের বিশেষ জাতের গোয়ালগাদ্বা শিম এ বছর দক্ষিণ সুরমার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। সম্ভাবনাময় এ ফসলের চাষ আরো বিস্তৃত হলে কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে আরো স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও সমৃদ্ধ হবে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাশরেফুল আলম জানান, এ বছর গোলাপগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৭৩০ হেক্টর জমিতে গোয়ালগাদ্দা শিমের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮,০০০ মেট্রিকটন। এ সীমকে ঘিরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটা বাণিজ্য হয়।। এই শিমের উৎপাদন নিরাপদ করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গোলাপগঞ্জ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে, ফেরোমন ফাঁদ ও আঠালো হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করে নির্বিচারে কীটনাশক স্প্রে করার হার কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে।।শিমের উৎপাদন নিরাপদ এবং উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে করতে পারলে আরো ব্যাপক আকারে এই শিম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।।
শীত মৌসুমে পানি সেচের সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফুলবাড়ি এলাকার একটি খাল খনন করে পানি সেচের ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের পুরকায়স্থবাজারে একটি উন্নতমানের শেড তৈরি করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের ক্লাব পয়েন্টেও আরেকটি শেড তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।সারাবছর শিম রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা সর্ম্পকে তিনি বলেন, শিম সংরক্ষণের জন্য খুব শীঘ্রই লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের ডিএম সড়কের পাশেই একটি সুবিধামূলক জায়গায় হিমাগার তৈরি করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মোঃ শামসুজ্জামান বলেন, সিলেটের সবজির মধ্যে গোয়ালগাদ্দা শিম বেশ সম্ভাবনাময়। এটি ইউরোপসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে রফতানি হচ্ছে। এ বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।’ শিমের উৎপাদন নিরাপদ এবং উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে করতে পারলে আরো ব্যাপক আকারে এই সীম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
সিলেটের সংবাদ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সিলেট আর্ট এন্ড
৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে সিলেটের সংবাদ ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন,
সিলেট সিটি করপোরেশনের চৌকিদেখী এলাকার শাহপরান প্রি-ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষার্থী মারিয়া মেহজাবিন মাওয়া “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” প্রতিযোগিতার উশু ইভেন্টে গোল্ড মেডেল
ড্রেজারে বালু কাটছে আলীম সিন্ডিকেট স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে, কোনো প্রকার টেন্ডার বা ইজারা ছাড়াই সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার
সাকির আমিন, ছাতক: সুনামগঞ্জের ছাতক সদর ইউনিয়নের আন্ধারী গাঁও,মল্লিক পুর,কেশব পুর ও বাউশা ডহর (গভীর) নামক স্থানে সুরমা নদীর ভাঙনে
সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নাধীন পুটিকাটা বিল জলমহাল ১৪৩৩-১৪৩৫ বাংলা সনের চৈত্র পর্যন্ত সময়ের জন্য বার্ষিক ৩,০৮,২২৪ (তিন লক্ষ আট
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সবসময়ই জনগণের আকাঙক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত
জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দ ও হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ১০দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক