admin

প্রকাশিত: 6:21 AM, August 5, 2026

ওসমানীনগরে ১৪ বছরের বিরোধের বিস্ফোরণ: হামলা, হত্যা চেষ্টার মামলা, আদালতে চার্জশিট, বাড়িছাড়া আওলাদ মিয়া

ওসমানীনগরে ১৪ বছরের বিরোধের বিস্ফোরণ: হামলা, হত্যা চেষ্টার মামলা, আদালতে চার্জশিট, বাড়িছাড়া আওলাদ মিয়া

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে চলমান একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, হত্যা চেষ্টার অভিযোগ, একের পর এক মামলা, আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিরোধের জেরে এক পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী মো. আওলাদ মিয়ার দাবি, আক্তারুজ্জামান হেলন মিয়া, সের্জন মিয়া, জোয়েল মিয়া, রয়েল লিয়া, মিলন মিয়া, মিলাদ মিয়া, জয় মিয়া, আনসার আলী, নাহিদ মিয়া ও তাদের প্রভাবশালী চক্রের ধারাবাহিক হামলা, মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। এমনকি গত এক বছর ধরে তিনি নিজ বসতবাড়িতেও যেতে পারছেন না।

সম্প্রতি আওলাদ মিয়া তাঁর দীর্ঘ ১৪ বছরের ভোগান্তির বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে থাকা মামলার নথি, আদালতের কাগজপত্র ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিল তাঁর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে। এসব মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র (চার্জশিট) এবং আদালতের নথির অনুলিপি এই প্রতিবেদকের কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে। ২০১৪ সালে তিনি নিজ উদ্যোগে একটি বাণিজ্যিক মুরগির খামার প্রতিষ্ঠা করেন। খামারটি চালুর পর স্থানীয় ব্যক্তি সেজন সেখানে অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে তাঁকে অংশীদার করা হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সেজন, তাঁর বড় ভাই আখতারুজ্জামান হেলন এবং তাঁদের সহযোগীরা তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। খামারে মুরগি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত সড়কের দুই স্থানে বাঁশ ও খুঁটি পুঁতে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে খামারে মুরগি আনা-নেওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।

বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সালিশি মহলের নজরে আনা হলে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের সামাজিকভাবে বয়কট করেন বলে দাবি করেন আওলাদ মিয়া। মহল্লা এবং আশপাশের গ্রামের লোকজন তাদের একঘরে করে রাখেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে অভিযুক্তদের জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিরোধ, হামলা কিংবা মারামারিতে জড়াবে না এ মর্মে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত সমঝোতা সম্পাদিত হয়।

তবে আওলাদ মিয়ার অভিযোগ, লিখিত সমঝোতার পরও বিরোধের অবসান হয়নি। বরং অভিযুক্তরা অন্তর্নিহিত ক্ষোভ পুষে রেখে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। আওলাদ মিয়া জানান, তাঁর বড় ভাই দীর্ঘ দেড় বছর ধরে লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিদেশ যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকাকালে জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আবার নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তদন্ত ও স্থানীয় সালিশে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয় এবং সিদ্ধান্ত তাঁদের পক্ষেই আসে।কিন্তু এর মাত্র দুই দিন পর, তাঁর ভাইয়ের লন্ডনে যাওয়ার ঠিক আগে তাঁদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

আওলাদ মিয়ার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও মাধ্যমে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। তাঁকে আপস-মীমাংসা করে মামলা প্রত্যাহার করতে বলা হয়।

তিনি বলেন, তারা বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে বলছে মামলা তুলে নিতে। কিন্তু আমি কোনো আপস করতে চাই না। আমি আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।”ওসমানীনগর থানায় দায়ের করা মামলায় সংঘবদ্ধ হামলা, হত্যা চেষ্টা, ভাঙচুর, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বশত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর চালায়। এতে নারী-পুরুষসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং বসতঘর ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সেই কারণেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলায় অন্তর্ভুক্ত দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা (হত্যাচেষ্টা) অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

আওলাদ মিয়া বলেন, গত ১৪ বছরে তাঁর পরিবার একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। তাঁর মা-বাবা, ব্যক্তিগত গাড়িচালক এবং তিনি নিজেও সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন। তিনি জানান, এসব ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় তাঁর চারটি পৃথক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগার থেকে বের হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

আওলাদ মিয়া অভিযোগ করেন, শুধু গ্রামেই নয়, তাঁকে দুইবার আদালত প্রাঙ্গণেও হামলার শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, কোনোরকম প্রাণ নিয়ে সেদিন আদালত থেকে বের হতে পেরেছিলাম। এরপর থেকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

আওলাদ মিয়ার দাবি, অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির কারণে গত ছয়-সাত মাস ধরে তিনি নিজের বসতবাড়িতে যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, “আমাকে এবং আমার পরিবারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আওলাদ মিয়া অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের অন্যতম সেজনের বড় ভাই আখতারুজ্জামান হেলন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাঁর দাবি, এলাকায় সাধারণ মানুষ তাঁর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকার অন্তত চার থেকে পাঁচটি পরিবারের জমি দখল করে রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ভয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে পারছেন না। অভিযোগে আওলাদ মিয়া দাবি করেন, তাঁর কাছে এমন একটি ভিডিও রয়েছে যেখানে আখতারুজ্জামান হেলনের নেতৃত্বে এক রিকশাচালককে প্রকাশ্যে অপদস্থ ও বিচার করার দৃশ্য দেখা যায়। তাঁর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এছাড়া আওলাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী এই চক্রের সদস্য আক্তারুজ্জামান হেলন, মিলন, জুয়েল, মিলাদ, ডেজি ও আব্দুস সোবহান একাধিকবার কারাভোগ করার পরও পুনরায় তার পরিবারের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের কর্মকাণ্ডে শুধু তার পরিবারই নয়, স্থানীয় এলাকাবাসীও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং অনেকেরই রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

আওলাদ মিয়া পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের বক্তব্য নেওয়া হোক। প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা শুধু নিরাপদে বাঁচতে চাই। আইনের শাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।


আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

কয়েস লোদীর হাত ধরে স্বপ্নযাত্রা শুরু সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের

কয়েস লোদীর হাত ধরে স্বপ্নযাত্রা শুরু সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের

২৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, উপস্থিত থাকছেন ৫ মন্ত্রী,৯৯৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বিশাল মহাপরিকল্পনা স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে সিলেটের অবহেলিত নগর পরিকল্পনা

এমসি কলেজ গণিত অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের অভিষেক সম্পন্ন

এমসি কলেজ গণিত অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের অভিষেক সম্পন্ন

এমসি কলেজ অতীত ঐহিত্যকে ধারণ করে জ্ঞানের জগতে নেতৃত্বে দিয়ে যাাচ্ছে : কাইয়ুম চৌধুরী ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের গণিত অ্যালামনাই

নজরুল একাডেমি সিলেটের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা

নজরুল একাডেমি সিলেটের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা

‘নজরুল একাডেমি সিলেট অঞ্চলের শুদ্ধ সংস্কৃতির প্রধান চর্চাকেন্দ্রে পরিণত হবে’ সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নজরুল একাডেমি, সিলেট-এর নবগঠিত কমিটির

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবির’র শপথ নেওয়ায় সিলেট নগরীতে ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবির’র শপথ নেওয়ায় সিলেট নগরীতে ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল

‎‎গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় সিলেটের কৃতি সন্তান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরকে স্বাগত জানিয়ে সিলেট নগরীতে

কবি সুকান্তের শততম জন্মবার্ষিকীতে জাগরণী বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংঘ সিলেট’র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা

কবি সুকান্তের শততম জন্মবার্ষিকীতে জাগরণী বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংঘ সিলেট’র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা

বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জাগরণী বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংঘ সিলেট-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী

পরিদর্শনকালে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পনগরী

পরিদর্শনকালে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পনগরী

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শাহপরাণ (রহ.) বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত ১৮৮ একর জমির নতুন বিসিক শিল্পনগরীর স্থান পরিদর্শন করেছেন

এসএমপির মতবিনিময় সভায় খন্দকার মুক্তাদির সিলেটে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না

এসএমপির মতবিনিময় সভায় খন্দকার মুক্তাদির সিলেটে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় দেওয়া হবে না

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট মহানগরীকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও সুশাসিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন

ওসমানী বিমানবন্দরে বিসিকের ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন

ওসমানী বিমানবন্দরে বিসিকের ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন

জাতীয় অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য: খন্দকার মুক্তাদির স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র