admin
প্রকাশিত: 5:32 PM, August 14, 2026
আব্দুর রহমান:
সিলেট নগরীর দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে আবাসনের চাহিদা। নতুন নতুন বহুতল ভবন গড়ে উঠলেও স্বস্তি আসেনি ভাড়াটিয়াদের জীবনে। বরং উচ্চ ভাড়া, অগ্রিম অর্থের চাপ, কঠোর বাড়ির নিয়ম এবং অনিশ্চিত বসবাসের কারণে অনেকের কাছে ভাড়া বাসা যেন এক ‘অদৃশ্য কারাগারে’ পরিণত হয়েছে।
চাকরি, ব্যবসা কিংবা উচ্চশিক্ষার কারণে প্রতিদিনই নতুন মানুষ সিলেটে আসছেন। কিন্তু তাদের বড় একটি অংশ অভিযোগ করছেন, বাসা ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা নানা ধরনের শর্ত ও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেক বাড়ির মালিক দুই থেকে ছয় মাসের অগ্রিম ভাড়া দাবি করেন। কোথাও পরিবার ছাড়া ব্যাচেলরদের বাসা দেওয়া হয় না, আবার কোথাও অতিথি আনা, নির্দিষ্ট সময়ের পরে বাসায় প্রবেশ, এমনকি রান্না বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, প্রতি বছর বা নির্দিষ্ট সময় পরপর কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি না থাকায় ভাড়াটিয়ারা নিজেদের অধিকার নিয়েও অনিশ্চয়তায় থাকেন। হঠাৎ বাসা ছেড়ে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ, অগ্রিম অর্থ ফেরত পেতে জটিলতা এবং ইউটিলিটি বিল নিয়ে বিরোধও নিয়মিত ঘটছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, “মাসের বড় একটি অংশই বাসাভাড়ার পেছনে চলে যায়। এরপরও সব সময় মনে হয়, কখন আবার বাসা ছাড়তে বলা হবে।” একজন বেসরকারি চাকরিজীবীর ভাষায়, “আমরা ভাড়া দিই, কিন্তু অনেক সময় নিজের বাসাতেও স্বাধীনভাবে থাকতে পারি না। ছোটখাটো বিষয়েও জবাবদিহি করতে হয়।”
তবে বাড়ির মালিকদের বক্তব্যও একেবারে ভিন্ন নয়। তাদের দাবি, নির্মাণ ব্যয়, ব্যাংক ঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, পৌরকর, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবার ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া সমন্বয় করা অনেক সময় অনিবার্য হয়ে পড়ে। এছাড়া ভবনের নিরাপত্তা, প্রতিবেশী পরিবেশ এবং সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে কিছু নিয়ম আরোপ করা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাড়াবাজারে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতার অভাব, লিখিত চুক্তির অনিয়ম, ভাড়া নির্ধারণে সুস্পষ্ট মানদণ্ডের অনুপস্থিতি এবং কার্যকর নজরদারির ঘাটতি। ফলে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক করা, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে নির্দেশিকা প্রণয়ন, অভিযোগ নিষ্পত্তির সহজ ব্যবস্থা চালু এবং প্রচলিত আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিলেটের মতো দ্রুত বর্ধনশীল নগরীতে আবাসন খাতকে আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করা না গেলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও প্রকট হতে পারে। নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও ন্যায্য আবাসন নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বাড়ির মালিক এবং ভাড়াটিয়া সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
একদিকে বাড়ির মালিকদের বিনিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণের বাস্তবতা, অন্যদিকে ভাড়াটিয়াদের নিরাপদ ও সম্মানজনক আবাসনের অধিকার এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু নীতিমালা, স্বচ্ছ চুক্তি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমেই সিলেটের আবাসন খাতে দীর্ঘদিনের এই অস্থিরতার টেকসই সমাধান সম্ভব।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ বাংলাদেশে যেকোনো জনগুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও সংশোধনে ইসলামী মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য সাউথ
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব ও জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেছেন, ব্যবসায়ীদের পেশাগত
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেছেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক
সিলেটকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রমের সূচনা হিসেবে ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (সিউক)-এর প্রথম
ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন: কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যের
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ওসমানীনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে সীরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার বাদ মাগরিব তাজপুর বাজারস্থ
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নে ‘সোনাপুর চ্যারিটি গ্রুপ’র পক্ষ থেকে সিরাজপুর কাজীবাড়ী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ২০২৬ সালে
সিলেটে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তর্জাতিক বেতার সংস্থা রেডিও রিপাবলিক ইন্দোনেশিয়া (জজও)-এর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। গত শুক্রবার নগরীর শাহপরানের হোটেল